Aaj India Desk, কলকাতা : দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের সকল সরকারি শাখাতেই হাজার হাজার চিঠি ও নথি ধুলোর আস্তরণে চাপা পড়ে থাকার দৃশ্য প্রায় গা-সওয়া হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের। সেই একই চিত্র যে দেখা যাবে স্বাস্থ্য ভবনের (Swasthya Bhawan) রিসিভিং অ্যান্ড ডিসপ্যাচিং শাখায়, তাতে নতুন কি ! বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের পাঠানো হাজার হাজার চিঠি খোলা ছাড়াই পড়ে ছিল সেখানেও। তবে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এই চিত্র দেখে এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)।
হঠাৎ পরিদর্শনেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর ছবি
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনের নিচতলায় অবস্থিত রিসিভিং অ্যান্ড ডিসপ্যাচিং শাখায় আচমকা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, ঘরের বিভিন্ন কোণ ও টেবিলের পাশে বস্তা ও স্তূপ করে রাখা রয়েছে অসংখ্য চিঠি, আবেদনপত্র এবং সরকারি নথি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই শাখার অবস্থা এমনই ছিল।
পরিদর্শনের সময় স্বয়ং কয়েকটি চিঠির বান্ডিল খুলে দেখেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালের একাধিক সরকারি চিঠিও এখনও পর্যন্ত খোলা হয়নি। এর মধ্যে বহরমপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH)-এর পাঠানো ২০১৮ সালের একটি সরকারি চিঠিও ছিল বলে জানান তিনি। দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, ২০১৬ সালেরও আগের নথিপত্র পর্যন্ত ওই বিভাগে জমে রয়েছে।
দায়ীদের জবাবদিহির নির্দেশ
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee) প্রশ্ন তোলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের গাফিলতির দায় কার। তিনি রিসিভিং শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে অবিলম্বে দেখা করার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা তলব করেন। পরিদর্শনের পর মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে স্বাস্থ্য ভবনে আসা প্রতিটি চিঠি নির্দিষ্ট সময়ে খুলতে হবে এবং প্রাপ্তির স্বীকৃতি (Acknowledgement) পাঠাতে হবে।
পাশাপাশি, জমে থাকা পুরনো সমস্ত চিঠিরও পর্যায়ক্রমে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আগে যাঁরা চিঠি পাঠিয়েছেন, তাঁরা হয়তো উত্তর পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু প্রশাসনের দায়িত্ব সেখানেই শেষ হয়ে যায় না। চিঠি বাছাই ও উত্তর দেওয়ার কাজে কর্মীসংখ্যা কম থাকলে অবিলম্বে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগেরও নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশের পরই রিসিভিং শাখায় বস্তাবন্দি চিঠিগুলি দ্রুত বাছাই ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে।


