কলকাতা: বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর ভেঙে খানখান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। একের পর এক প্রথম সারির নেতা-নেত্রী দল ছাড়ার পর এবার জল্পনার কেন্দ্রে প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। শনিবার কালীঘাটে এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মহিলা ব্রিগেড’-এর অন্যতম শক্তিশালী মুখ ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা। রাজনৈতিক মহলে এই চার নেত্রীকে তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বের অন্যতম স্তম্ভ বলেই মনে করা হত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সমীকরণ বদলেছে। প্রথমে কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে। বর্তমানে তিনি লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক। পরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কৃষ্ণা চক্রবর্তীও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দেন।
এরপর থেকেই নজর ছিল শশী পাঁজার (Shashi Panja) দিকে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি কার্যত জনসমক্ষে আসাই বন্ধ করে দেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে সরে যান। এমনকি রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়ায়, তিনি নাকি নিজের মাতৃভূমি অন্ধ্রপ্রদেশে চলে গিয়েছেন। ফলে দীর্ঘ নীরবতার পর আচমকা তাঁর প্রকাশ্যে আসা এবং সরাসরি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্লিনিকে গিয়ে সাক্ষাৎ করাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।
সূত্রের খবর, শনিবার কালীঘাটে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তাও বলেন শশী পাঁজা (Shashi Panja)। যদিও এই সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই শশী জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণেই সেখানে গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক কোনও আলোচনা হয়নি বলেই তাঁর দাবি।
তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় রাজনৈতিক মহল। কারণ, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না থাকা এক প্রাক্তন মন্ত্রীর হঠাৎ বিরোধী শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর ক্লিনিকে গিয়ে সাক্ষাৎ করাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই ধারণা, এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত, সেই উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও এখনও পর্যন্ত শশী পাঁজা (Shashi Panja) বা এনসিপিআই, কোনও পক্ষই দলবদল বা রাজনৈতিক যোগদানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি। ফলে আপাতত জল্পনাই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এই সাক্ষাৎ যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হয়ে উঠতে পারে, সেই সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।


