Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পর্দার চরিত্র আর বাস্তব জীবনকে এক করে দেখার প্রবণতা নিয়ে সরব হলেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের (NEET Paper Leak) সময় তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর অনেকেই তাঁর পুরনো সিনেমার বিভিন্ন সাহসী দৃশ্য ও গ্ল্যামারাস মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল করে তাঁকে কটাক্ষ করতে থাকেন। সেই বিতর্কের মধ্যেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে (Instagram Story) দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কঙ্গনা।
মাণ্ডির বিজেপি সাংসদ জানান, সিনেমায় তিনি যেসব চরিত্রে অভিনয় করেন, সেগুলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। একজন অভিনেত্রী হিসেবে চিত্রনাট্যের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করাই তাঁর পেশা এবং সেই কাজের জন্যই তিনি পারিশ্রমিক পান। তাই সিনেমার দৃশ্য বা কোনও অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিকে বাস্তব জীবনের আচরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।
নিজের পোস্টে কঙ্গনা প্রশ্ন তোলেন, সিনেমার কোনও চরিত্র বা কোনও অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখে কি বাস্তব জীবনে একইভাবে চলা সম্ভব? তাঁর মতে, রিল আর রিয়েলের পার্থক্য না বুঝে সেইসব দৃশ্য তরুণদের সামনে তুলে ধরা ভুল বার্তা দিতে পারে। তিনি লেখেন, “যে কাল্পনিক চরিত্রের জন্য আমাকে কোটি টাকা দেওয়া হয়, বা কোনও ইভেন্টে করা কাজকে তুলে ধরে আপনারা কি বোঝাতে চান? একটি ছোট মেয়ে কি রাস্তায়, স্কুলে বা পাবে গিয়ে একই কাজ করতে পারে? দুটো কি কখনও এক হতে পারে? দয়া করে তরুণ প্রজন্মকে বিপথে চালিত করবেন না। আজ আপনারা অন্যের সন্তানদের বিভ্রান্ত করছেন, কাল আপনাদের নিজেদের ছেলেমেয়েরাও এই বিপদে পড়বে।”
কঙ্গনার দাবি, সিনেমা মূলত বিনোদনের জন্য তৈরি হয়। তাই পর্দায় দেখা কোনও চরিত্রকে বাস্তব জীবনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার কাজ বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা, সেই চরিত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের মিল খোঁজা ঠিক নয়।
পোস্টে নিজের অভিনয় জীবনের কথাও উল্লেখ করেন কঙ্গনা। তিনি জানান, ২০০৬ সালে গ্যাংস্টার ছবির মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করার পর প্রায় দুই দশকের কেরিয়ারে তিনি চারবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। একজন শিল্পী হিসেবে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই এবং তিনি সেটিকে নিজের পেশাগত দায়িত্ব বলেই মনে করেন।
সবশেষে কঙ্গনা সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বিষয় শেয়ার করার আগে যেন তার প্রভাব নিয়ে ভাবা হয়। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সবারই রয়েছে।


