ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যত কাছে আসছে, বাংলার রাজনীতিতে ততই ঘনীভূত হচ্ছিল এক পুরনো প্রশ্ন—কংগ্রেসের সঙ্গে কি ফের জোটে যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস? ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় এই দুই দলের হাত মেলানোই ছিল রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্ট। কিন্তু সেই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি যে আর হচ্ছে না, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দিল্লি থেকেই কংগ্রেস-তৃণমূল জোট জল্পনায় দাঁড়ি টেনে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। তাঁর পাশেই উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সাংবাদিক বৈঠকের মাঝেই উঠে আসে রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি বিহারে রাহুল গান্ধী-র ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ ঘিরে কংগ্রেসের আন্দোলন এবং বাংলায় এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের পথে নামা—এই দুই প্রেক্ষাপট মিলিয়ে সাংবাদিকদের একাংশ জানতে চান, ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে কোনও সমঝোতার সম্ভাবনা আছে কি না।
প্রশ্নের উত্তরে কোনও রাখঢাক না রেখেই মমতা বলেন, “আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারব না। তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় একাই লড়াই করে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সব দল লড়াই করে। লড়তে দিন। যে যার নিজের ভাবনা।” তাঁর এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গে জোটের কোনও রাস্তাই খোলা রাখছে না শাসক দল।
শুধু জোট প্রসঙ্গই নয়, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল কতগুলি আসন পেতে পারে—সেই প্রশ্নও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। উত্তরে হাসিমুখে মমতা বলেন, “আমি রাজনৈতিক জ্যোতিষী নই।” তবে সঙ্গে সঙ্গেই আত্মবিশ্বাসী সুরে যোগ করেন, “এবার আরও বেশি আসন পাব।” অর্থাৎ, ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী না করলেও নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে কোনও সংশয় রাখছেন না তিনি।
সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার পরও সেই আত্মবিশ্বাসের রেশ বজায় রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাসতে হাসতে বলেন, “নির্বাচনে জয়ের পর আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। তখন ভালো মিষ্টি খাওয়াব।” রাজনৈতিক বার্তার মধ্যেও এই হালকা রসিকতায় তিনি বুঝিয়ে দেন, ছাব্বিশের লড়াই নিয়ে তৃণমূল কতটা নিশ্চিন্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেল একাধিক জল্পনার ভবিষ্যৎ। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় গেলেও, এ বার সেই দিকেও এখনও স্পষ্ট কোনও আগ্রহ দেখা যায়নি। ফলে কংগ্রেস কি আবার ২০১১ সালের মতো তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে—এই প্রশ্ন ঘুরছিল রাজনৈতিক মহলে।
দিল্লির মঞ্চ থেকেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা একেবারে স্পষ্ট—ছাব্বিশে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস একাই লড়বে, এবং লড়াইয়ের ফলাফল নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী।


