স্নেহা পাল, চণ্ডীগড়: ফরিদাবাদের (Faridabad) বাদশা খান সিভিল হাসপাতালের বাইরে থেকে নেওয়া একটি ছোট ভিডিও হঠাৎ ভাইরাল হয় সমাজ মাধ্যমে। সেই একটি ভিডিও ঘিরেই প্রশ্ন ওঠে হাসপাতালের ভূমিকা ও পরিষেবা নিয়ে।
ফরিদাবাদের (Faridabad) সিভিল হাসপাতালে টিউবারকিউলোসিসে আক্রান্ত ৩৫ বছরের এক মহিলা অনুরাধা দেবীর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পর মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবার অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্য কোনও যানবাহনের সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়ে দেন, এ ক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।
মৃতার স্বামী ঝুনঝুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। দিল্লির এইমস সহ একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছিল অনুরাধার। সব খরচ জোগাতে গিয়ে হাতে আর কোনও টাকা ছিল না তাঁর।
হাসপাতাল থেকে সাহায্য না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সহায়তায় একটি মোটরচালিত ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ভ্যানেই অনুরাধা দেবীর দেহ শুইয়ে ১২ কিমি দূরে সারুরপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভ্যানের ভিতরে মৃতদেহের পাশে একটি বাচ্চা ছেলে সহ পরিবারের সদস্যদের বসে থাকতে দেখা যায়। সেই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বাদশা খান সিভিল হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইমার্জেন্সি ও ট্রমা বিভাগের পরিষেবায় কোনও গাফিলতি বা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল, যা দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় না পেয়ে ভ্যানেই মৃতদেহ নিয়ে যেতে হয়। এই ঘটনা সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ।


