Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের হাজিরা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। খুব শীঘ্রই প্রচলিত হাজিরা খাতার পরিবর্তে চালু করা হবে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স (Biometric Attendance)। রবিবার অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের ১১তম জেলা সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন (Dipak Barman)। একই মঞ্চ থেকে শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক ল্যাব তৈরির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু হলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির তথ্য আরও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন হাতে হাজিরা নেওয়ার ঝক্কি থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ফলে তাঁরা প্রশাসনিক কাজের বদলে পড়াশোনার দিকেই আরও বেশি সময় দিতে পারবেন বলে সরকারের আশা।
দীপক বর্মন (Dipak Barman) জানান, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির বিষয়ে কড়া নজর রাখা হবে। শুরু থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে, নির্ধারিত উপস্থিতির হার পূরণ না হলে পরীক্ষায় বসার অনুমতি মিলবে না। সরকারের মতে, এই নিয়ম চালু হলে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতির হার যেমন বাড়বে, তেমনই শিক্ষার পরিবেশও আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে।
এদিন শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় এক হাজার সরকারি স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে, যাতে বিজ্ঞান শিক্ষা ও ব্যবহারিক পাঠ আরও উন্নত করা যায়।
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে দীপক বর্মন (Dipak Barman) বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ন্যূনতম তিনজন শিক্ষক নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আপার প্রাইমারি ও হাইস্কুলের প্রশাসনিক কাঠামো একত্রিত করা যায় কি না, তা নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে।
অতীতে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর সিদ্ধান্ত এবং একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ সেই সংস্কারের পথেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল।


