নয়াদিল্লি: দিন কয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির এক সৈনিক বলেছিলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না, তাঁকে অপসারণ করা উচিৎ! নয়ত এটা প্রাইড রেজিগনেশন (অহংজনিত পদত্যাগ) হবে’! শনিবার ৩৬ দিনের আন্দোলন শেষে জয়ের হাসি হাসছে যন্তর মন্তর। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest) সহ ছাত্রদের দাবী মেনে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)।
কিন্তু আদৌ কি জয় হল আরশোলাদের? ইস্তফা দিতেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশংসায় মেতেছে মন্ত্রীসভা। পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে বিজেপি। তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পড়ুয়াদের কল্যাণে তাঁর কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিরেন রিজিজু লেখেন, “দশকের পর দশক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে গিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। জনসেবা ও পড়ুয়াদের সার্বিক কল্যাণে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।” তিনি আরও জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
রিজিজু তাঁর বার্তায় লেখেন, “এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অসীম সংকল্পের প্রয়োজন। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) তাঁর দায়িত্ব প্রশংসনীয়ভাবে পালন করেছেন।” পাশাপাশি তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তাঁর অবিচল জনসেবা, শিক্ষা সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার এবং শক্তিশালী ভারত গঠনে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।
শুধু কিরেন রিজিজুই নন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনও ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজের প্রশংসা করে তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা গোড়া থেকেই আশঙ্কা করে আসছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেও কি হবে? অন্য একজন মন্ত্রীকে এই মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু পরিবর্তন? শিক্ষাক্ষেত্রে যে ঘুণ ধরেছে তা সমূলে উৎপাটিত করতে আদৌ কি কোনও প্রয়াস নেবে এই সরকার? ইস্তফার পর ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) ঘিরে শাসক শিবিরের প্রশংসা সেই প্রশ্নগুলোকেই আরও জোড়াল করছে। এই অবস্থায় সোনম ওয়াংচুক অবশ্য বলেছেন, এটি “রাস্তা থেকে উঠে আসা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের জয়”।
X Link: https://x.com/Cockroachisback/status/2080960148076634262
তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রশংসা করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest), দেশের জেন জি প্রজন্ম এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকদের অভিনন্দন জানান।ওয়াংচুক লেখেন, শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তাঁর কথায়, “জবাবদিহির পর এবার প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার।” এখন দেখা যাক, নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে পড়ুয়া তথা সিজেপি শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তন এবং সাফাই অভিযানে কতদূর সফল হয়।


