26.5 C
Kolkata
Friday, July 24, 2026
spot_img

‘গোটা বিশ্ব জানে’-বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় মমতার নাম জড়ানোয় সাফাই কুণাল ঘোষের

Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: ২০১২ সালে সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড (Barun Biswas Murder Case)-কে ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর পর এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নাম ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে যুক্ত করার দাবি উঠেছে। বুধবার বরুণ বিশ্বাসের আন্দোলনের সঙ্গী নন্দদুলাল দাস বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। সেই আবেদনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানান। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযোগে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে থাকা তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার বাসিন্দা বরুণ বিশ্বাস কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক ছিলেন। সমাজের নানা অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সরব ছিলেন। সুটিয়ায় একের পর এক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ‘সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ’ গড়ে তুলেছিলেন। পাশাপাশি নদী সংস্কারের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়েও সে সময়ের শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে মোটরবাইকে ওঠার সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন বরুণ বিশ্বাস। ঘটনার পর তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছিল, এই হত্যার নেপথ্যে তৎকালীন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ষড়যন্ত্র ছিল। কিন্তু এত বছর কেটে গেলেও মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর বরুণের পরিবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়। তাঁর নির্দেশে সিআইডি নতুন করে তদন্ত শুরু করে। বর্তমানে বনগাঁ আদালতে মামলার পুনরায় বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। আগামী ৩১ আগস্ট বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে নন্দদুলাল দাস দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত এতদিন সামনে আসেনি। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের ব্যবস্থা না করে গোটা ঘটনার দায় সিপিএমের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে আসল অভিযুক্তরা আড়ালে থেকে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর এই লিখিত আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হোক।

অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম এই মামলায় জড়ানো নিয়ে বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস বলেন, যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারেন এবং নন্দদুলাল দাস তাঁর আইনি অধিকারই প্রয়োগ করেছেন। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ তদন্তসাপেক্ষ। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পরিবার এ নিয়ে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করতে চায় না।

এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “গোটা বিশ্ব জানে বরুণ বিশ্বাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরতম কোনও সম্পর্ক নেই। বিচার চাওয়ার অধিকার সবার আছে, কিন্তু এভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম টেনে এনে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে, যা এখন স্পষ্ট।”

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন