স্নেহা পাল, দিল্লি: কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছে NEET PG ডাক্তারি পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং। সেখান থেকেই শুরু বিতর্কের। একটি অনলাইন এডুকেশনাল গাইডেন্স প্ল্যাটফর্মের দাবি, ডিমড ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ১৪৫টি EWS তালিকাভুক্ত আসন এমন প্রার্থীরা নিয়েছেন, যারা পরে কোটি টাকার বেশি ফি দিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এই নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।
ওই প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু প্রার্থী EWS কোটায় নাম তুলে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য কাউন্সেলিংয়ে অগ্রাধিকার পেয়েছেন। পরে তাঁরা ডিমড বা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ম্যানেজমেন্ট বা NRI কোটার আওতায় কোটি টাকার বেশি ফি দিয়ে MD ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। একটি ক্ষেত্রে প্রায় ৪.২৩ কোটি টাকা ফি দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসে।
EWS যোগ্যতার শর্ত
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, EWS সুবিধা পেতে পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের নামে পাঁচ একরের বেশি কৃষিজমি বা নির্দিষ্ট সম্পত্তি থাকা চলবে না। এই শর্ত থাকা সত্ত্বেও কোটি টাকা ফি দেওয়ার ঘটনা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন।
NEET PG এর কেন্দ্রীয় কাউন্সেলিং পরিচালনা করে মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটি (MCC)। মেডিক্যাল শিক্ষার মান ও নিয়মকানুন দেখভাল করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। অভিযোগ উঠছে, EWS সার্টিফিকেট যাচাই এবং আসন বরাদ্দের সময় পর্যাপ্ত ক্রস-ভেরিফিকেশন হয়নি।
প্রকৃত প্রার্থীদের জন্য উদ্বেগ
প্রকৃত EWS প্রার্থীদের জন্য এই ধরনের অভিযোগ গভীর উদ্বেগের কারণ। বহু দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে এই কোটার উপর নির্ভর করেন। অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে তাঁদের প্রকৃত সুযোগ কমে যাচ্ছে। ফলে পুরো সংরক্ষণ ব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট আগেও মেডিক্যাল ভর্তি সংক্রান্ত কোটা ও অনিয়মের বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আদালত বিভিন্ন মামলায় রিপোর্ট ও ব্যাখ্যা তলব করেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয় ও সম্পত্তির সার্টিফিকেট আরও কড়া ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। রাজ্য প্রশাসন, কাউন্সেলিং বোর্ড এবং কলেজগুলির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো দরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।


