Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভায় বাজেটের খাতার পাতা উল্টাতে উল্টাতেই খুলে গেল রাজনীতির ‘হিসাবের খাতা’। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বরাদ্দের আলোচনার মধ্যেই বুধবার বিধানসভায় গতকাল শহীদ দিবসের মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নাম না করে কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের প্রসঙ্গ এবং ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র নিয়েও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
কী বলেছিলেন অভিষেক?
মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের শহীদ সভায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিশ্বাসঘাতকতা, মিথ্যা মামলা বা ভয় দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করা যাবে না। তিনি বলেন, “জেলে ভরুক, মিথ্যা মামলা দিক, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিক, তবুও মাথা নত করব না।” কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আজ নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছে। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়বে। ২০৩১ সালে সব হিসাব নেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আগের দিনের রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “গতকাল খুব বড় বড় কথা হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩১-এ হিসাব হবে। আমি দেখব, ৩১-এ উনি কোথায় থাকবেন। সাহস থাকলে ডায়মন্ড হারবার থেকে লড়বেন।”
এখানেই থেমে না থেকে তিনি জনসমাগমের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক শক্তি নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, “আড়াই হাজার লোক নিয়ে এত বড় বড় কথা! আমি একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সভা করলে তার চার গুণ লোক হয়।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিধানসভায় রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, বাজেট আলোচনার মাঝেই ফের মুখোমুখি অবস্থান নিল শাসক ও বিরোধী শিবির। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০৩১ সালের রাজনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে বিধানসভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে আরও জোরালো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


