Aaj India Desk, কলকাতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) তৃণমূলে (TMC) যোগদানের পর থেকেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে একের পর এক আক্রমণ করে আসছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। ফেসবুক লাইভে অভিষেককে নিয়ে তাঁর করা বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে এবার আইনি পথে হাঁটলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। মদনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, তিন দিনের মধ্যে লিখিত এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর পাঠানো নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই ফেসবুক লাইভে মদন মিত্র যে মন্তব্য করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, মানহানিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই বক্তব্যের কারণে অভিষেকের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাই তিন দিনের মধ্যে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিসে আরও বলা হয়েছে, এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক নেবেন না। তা একটি ট্রাস্টে দেওয়া হবে, যেখান থেকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়া তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে আর্থিক সহায়তা করা হবে।
শুধু ক্ষতিপূরণই নয়, মদন মিত্রকে লিখিতভাবে এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমাও চাইতে বলা হয়েছে। নোটিস হাতে পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে এই নির্দেশ পালন না করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। এখন এই নোটিসের জবাবে মদন মিত্র কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই ফেসবুক লাইভে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে মদন মিত্র বলেছিলেন, “অভিষেক, আপনি একজন অপরাধী। আপনি খুনের সঙ্গে জড়িত, টাকার বিনিময়ে খুন করান। আপনার মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা রয়েছে।” এরপর তিনি আরও বলেন, “অভিষেককে একটা কথাই বলব, আমাকে ভয় দেখিয়ে বা চাপ দিয়ে কোনও লাভ হবে না। ডায়মন্ড হারবারে যাদের ভয় দেখাতে পারেন, আমাকে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন না। কিছুদিন আগেও আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছিল, আমার দিকে গুলিও চালানো হয়েছিল। কিন্তু এসব আমাকে দমাতে পারবে না। জন্ম হলে মৃত্যু একদিন হবেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, আপনারা যা বলার বলুন। আপনাদের ভয় দেখানোয় সিপিএম ভয় পেতে পারে, বিজেপিও ভয় পেতে পারে, কিন্তু মদন মিত্র ভয় পাওয়ার মানুষ নন।”


