Aaj India Desk, কলকাতা: দিল্লিতে NEET-UG 2026-কে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত ‘CJP চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা করে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের পাশে থাকার বার্তাও দেন।
পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লেখেন, “মতপ্রকাশ কখনও অপরাধ হতে পারে না।” তাঁর অভিযোগ, ছাত্র-যুবদের কণ্ঠরোধ করতে লাঠি ও টিয়ার গ্যাসের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনার বদলে কেন বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া হল। মমতা আরও বলেন, দেশ ছাত্র, কৃষক, নারী, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের। তাঁর দাবি, দমন-পীড়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র পরিচালিত হতে পারে না।
ছাত্রদের পাশে থাকার বার্তা
বিক্ষোভকারী ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, তিনি তাঁদের পাশে রয়েছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি তুলে তিনি আন্দোলনকারীদের সাহস ও ধৈর্যের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের সামনে প্রতিবাদকারীরা নির্ভীক থাকার বার্তা দিয়েছেন।
কী ঘটেছিল দিল্লিতে?
সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার ছাত্র-যুব সমবেত হন। তাঁদের মূল দাবি ছিল NEET-UG 2026-কে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে বিক্ষোভকারীরা সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু করলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকায়। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং পরে লাঠিচার্জ করে।
ঘটনায় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ছাত্র এবং কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়।
দিল্লির এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


