Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বর্ষণ ঘটেছে। এর মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর একটি বিশেষ নির্দেশ ঘিরে রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছেন বিরোধী শিবির। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তৃনমূলের ঋতব্রত শিবিরের ফিরহাদ হাকিমও (Firhad Hakim) প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন, এমন দৃশ্য তিনি আগে দেখেননি। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
কী নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিধানসভার রেফারেন্স পর্ব শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বিরোধী বিধায়ক যে সমস্যা বা দাবি উত্থাপন করবেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে ৭ দিনের মধ্যে নিজের স্বাক্ষরে লিখিত উত্তর দিতে হবে। সেই উত্তরে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও কাজ এখনও করা সম্ভব না হয়, তবে তার কারণও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। কোনও প্রকল্প বা কাজ সম্পূর্ণ করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে, কতদিন সময় লাগবে এবং কেন লাগবে, সেটিও উল্লেখ করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি জানান, বিধানসভায় উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ের কপি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে (CMO) পাঠাতে হবে। সেখান থেকে বিষয়গুলির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর কমপ্লায়েন্স রিপোর্টও তৈরি করা হবে, যাতে বিধায়কদের উত্থাপিত সমস্যাগুলি কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কতটা সমাধান হয়েছে, তারও হিসাব রাখা যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুগ্ধ বিরোধী পক্ষ
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঋতব্রত শিবিরের সহ-সভাপতি ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বলেন, “নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভার ইতিহাসে এর আগে এমনটা হয়নি। শুধু গত ১৫ বছর নয়, তারও আগে আমি বিরোধী দলের বিধায়ক ছিলাম। বিধায়কদের বক্তব্যকে এভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করার নজির আমি দেখিনি। এটা যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।” ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।


