রেজিনগর: জল্পনার অবসান। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের (AIMIM) সঙ্গে জোট হিসেবে লড়তে চলেছে হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir) জনতা উন্নয়ন পার্টি। শনিবার রেজিনগরের জনসভা থেকে সেই কথাই স্পষ্ট করলেন মিমের রাজ্য সম্পাদক ইমরান সোলাঙ্কি। বিজেপি-তৃণমূলকে একযোগে বিঁধে তাঁর কটাক্ষ, “আরএসএসের দুটি ফুল, বিজেপি আর তৃণমূল”। যদিও আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা করেনি AIMIM-JUP।
রেজিনগরের সভা থেকে কি বললেন হুমায়ুন?
ব্রিগেডের ময়দানে সভার অনুমতি না মেলায় রেজিনগরেই ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১০ লক্ষ মানুষ নিয়ে ‘গ্র্যান্ড সভা’ করবেন বলে জানিয়েছিলেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। সেই মত শনিবার রেজিনগরে শুধু সভাই নয়, বরং মিমের সঙ্গে জোটের জল্পনার অবসান ঘটালেন হুমায়ুন কবির। এদিন সভামঞ্চ থেকে হিন্দুদের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চান জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রমুখ।
তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিতে আমি সাম্প্রদায়িক কথা বলেছিলাম। সেদিন হিন্দু ভাইরা মনে আঘাত পেয়েছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আমি আজ করজোড়ে ক্ষমা চাইছি”। বস্তুত, লোকসভা নির্বাচনের আগের প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir) বলেন, “সে সময় ইউসুফকে জেতানর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ পালন করতে গিয়েই আমি হিন্দু সমাজের মানুষদের কিছু কথা বলেছিলাম। তার আগেরদিন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আমার বুকের উপর দাঁড়িয়ে আমাকে দাঙ্গাবাজ আখ্যা দিয়েছিলেন। তার প্রতিবাদে এই জেলার কোনও তৃণমূল নেতা মুখ খোলেননি”।
কি বললেন ইমরান সোলাঙ্কি?
হুমায়ুনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি, তৃণমূলকে একহাত নিলেন মিমের (AIMIM) রাজ্য সম্পাদক ইমরান সোলাঙ্কি (Imran Solanki)। তিনি বলেন, “বাংলায় বিজেপিকে মমতাই নিয়ে এসেছেন। মুর্শিদাবাদ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে, এটাই আমাদের দাবী।” সেইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের ভোট এবার জেইউপি ও মিমের খাতায় যাবে বলেও দাবী করেন সোলাঙ্কি।
মমতার কথা সঙ্গে কাজের মিল নেই বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। ইমরান সোলাঙ্কি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন রাজ্যে ওয়াকফ, এসআইআর হতে দেবেন না। তা সত্ত্বেও হয়েছে। বিজেপিকে আটকাতে ২০২১ এ আমরা মমতাকে ভোট দিয়েছিলাম। এবার রাজ্যের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”।


