Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : শুক্রবার সকাল হতেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকা। ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে যায় একটি স্কুল বাস (School Bus Crash)। ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় দুই পড়ুয়ার। আহত একাধিক পড়ুয়াও। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কিভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি বেসরকারি স্কুলের বাস (School Bus Crash) রেলগেট পার হওয়ার সময় আচমকা একটি ট্রেন এসে ধাক্কা মারে। একই ঘটনায় এক সাইকেল আরোহীকেও ট্রেনটি ধাক্কা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকালে আপ লাইনের একটি ট্রেন যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ রেলগেট বন্ধ ছিল। পরে গেট খুলে দেওয়া হয়। সেই সময়ই বিপরীত লাইনে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলে আসে। কীভাবে ট্রেন আসার আগে রেলগেট খুলে দেওয়া হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গেটম্যানের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পড়ুয়াদের পরিবার।
আহতদের পাশে স্থানীয় বাসিন্দারা
দুর্ঘটনার পর স্কুলবাসটি (School Bus Crash) সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাসটিতে মোট আটজন ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কর্ণসুবর্ণ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও গুরুতর আহতদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া উদ্দেশ্যে তাদেরকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভের কারণে বিপাকে পড়েছে পূর্ব রেল। দ্রুত বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়ে রেলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান উপস্থিত ছিলেন কি না, থাকলেও তাঁর ভূমিকা কী ছিল এবং রেলগেট খোলার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী দল।


