Aaj India Desk, কলকাতা : একসময় যাঁদের কাঁধে ভর করে সংগঠন বিস্তার করেছিলেন, ক্ষমতা হারানোর পর একে একে সেই পরিচিত মুখগুলিই দূরে সরে যাচ্ছেন। বিধানসভা ও রাজ্যসভা দুই ক্ষেত্রেই কমছে দলের প্রতিনিধিত্ব। রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, অনুব্রত মণ্ডল-সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগে চাপে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল। এই আবহেই প্রশ্ন উঠছে দলের আরেক প্রভাবশালী নেতার অবস্থান নিয়ে। দলের অন্দরের দাবি অনুযায়ী, এবার দল ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে ব্যক্তিগত আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। সেই প্রেক্ষিতেই এবার ২১ জুলাইয়ের আগেই রাজনৈতিক অবস্থান বদল করতে পারেন ব্রাত্য বসু। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি বলেন, “এখনও এই বিষয়ে কিছু ঠিক করিনি।” এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল তাঁর শিবির পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। পাশাপাশি প্রাক্তন বিধায়ক ও মানবাজারের প্রভাবশালী আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মুখ সন্ধ্যারানি টুডুও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিতে পারেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতা দল ছাড়ার পর বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যাদের যাওয়ার আছে, তারা ২১ জুলাইয়ের আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন। আমরা যে দল তৈরি করেছি, তাকে কলুষিত করবেন না। আপনি দল ছাড়তেই পারেন, তাতে আমরা দুর্বল হব না।” একইসঙ্গে তিনি জানান, ২১ জুলাইয়ের পর থেকেই সংগঠন নতুন করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। তাঁর কথায়, “কে এলেন, কে এলেন না, তাতে কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই স্বর্ণখনি। নতুন করে পথচলা শুরু করব আমরা।”
এই প্রেক্ষিতেই সম্ভবত ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও সন্ধ্যারানি টুডু ২১ জুলাইয়ের আগেই দল পরিবর্তন করবেন বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের সদস্যরা। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ২১ জুলাইয়ের আগে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দুই শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


