Aaj India Desk, কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার (Taratola Godown Collapsed) মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই কলকাতায় বহুতল নির্মাণের কাজের উপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা এবং নির্মাণের মান খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের নির্দেশে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি (High Power Committee) গঠন করা হয়। সেই কমিটির তত্ত্বাবধানে চলছে নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির অডিট (Audit)। প্রথম পর্যায়ের অডিটে ইতিমধ্যেই ১৬০টি বহুতল পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তার মধ্যে মাত্র ১১টি প্রকল্পকে আবার নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে প্রথম দফার অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অডিটে যেসব বহুতল নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে তৈরি হচ্ছে বলে প্রমাণ মিলেছে, শুধুমাত্র তাদেরই কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলির নির্মাণ আপাতত বন্ধই থাকবে।
কেন আটকে গেল অধিকাংশ বহুতলের কাজ?
একটি বহুতল নির্মাণের জন্য শুধু বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনই যথেষ্ট নয়। পুরসভার ছাড়পত্র, দমকলের অনুমতি এবং শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের প্রমাণ হিসেবে লেবার সার্টিফিকেশনও বাধ্যতামূলক। অডিটে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ নির্মীয়মাণ বহুতলের কাছেই এই লেবার সার্টিফিকেশন নেই। তাই নিয়ম না মানায় সেই সব প্রকল্পে আপাতত নির্মাণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লেবার সার্টিফিকেশন কী?
লেবার সার্টিফিকেশন হল এমন একটি নথি, যা প্রমাণ করে নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা প্রশিক্ষিত ও দক্ষ। অর্থাৎ তাঁরা নিরাপদভাবে নির্মাণকাজ করার যোগ্য। এই শংসাপত্র না থাকলে নির্মাণের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। অডিটে এই গুরুত্বপূর্ণ নথির অভাবই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে।
কী বলল পুরসভা?
পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানান, তারাতলার দুর্ঘটনার পর নির্মাণ প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা যাচাই করতেই এই বিশেষ অডিট শুরু হয়েছে। অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতেই কোন প্রকল্পে কাজ চলবে আর কোনটি আপাতত বন্ধ থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পুরসভা জানিয়েছে, অডিটের কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতার সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলে নির্মাণকাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। অডিট শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে নিয়ম মেনে থাকা প্রকল্পগুলিকে অনুমতি দেওয়া হবে।
কেন শুরু হয়েছিল এই অডিট?
গত ২৪ জুন তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন হঠাৎ ভেঙে পড়ে। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এরপরই রাজ্য সরকার বেআইনি ও নিম্নমানের নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। গঠন করা হয় হাই-পাওয়ার কমিটি এবং শুরু হয় রাজ্যজুড়ে নির্মাণ প্রকল্পগুলির অডিট। প্রথম দফায় ১৬০টি বহুতল পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১১টি প্রকল্পই আপাতত নির্মাণ চালানোর অনুমতি পেয়েছে।


