Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এবার ফের সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবারই কমিশনের সচিবকে চিঠি দিয়ে গোটা কমিশনকেই কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ বা বিদ্রোহী শিবিরকে অতিরিক্ত সময় বা বিশেষ সুবিধা না দিয়ে কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
কী অভিযোগ কালীঘাট শিবিরের?
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সাগরিকা ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগকে সামনে আনেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব জমা দিতে বলেছিল।
তাঁদের বক্তব্য, কালীঘাট শিবির নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির অতিরিক্ত সময় চায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ২৬ জুলাই পর্যন্ত আরও ১৫ দিনের সময় দিয়েছে বলে দাবি করেছে কালীঘাট শিবির।
নথি আদানপ্রদান নিয়েও প্রশ্ন
অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নথি আদানপ্রদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া মৈত্র। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “বিদ্রোহী শিবিরের জবাব এখনও তৃণমূলের হাতে না পৌঁছলেও তৃণমূলের নথি প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে কীভাবে?” একই বৈঠকে সাগরিকা ঘোষ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকেই বেছে তদন্তের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
অভিযোগ খারিজ ঋতব্রত শিবিরের
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও কালীঘাট তৃনমূলের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের সমস্ত যোগাযোগ আইনজীবীর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কমিশনকে চিঠি দিয়েছি আইনজীবীর মারফত। যদি আরও তথ্য চায়, সেটাও আইনজীবীর মাধ্যমেই পাঠানো হবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আলিপুর আদালতের রায়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ‘আসল’ তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই রায়ের অনুলিপিও নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। কমিশনের সিদ্ধান্তে সেই রায়ের প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


