Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতার আইটি হাব নিউটাউনের (Newtown) একটি বহুতল গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা (Cash recovered)ও সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে শুরু হওয়া এই অভিযান গভীর রাত পর্যন্ত চলে। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিক, গোয়েন্দা বিভাগ এবং টেকনো সিটি থানার পুলিশ যৌথভাবে এই তল্লাশি চালায়। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, এই গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে বড়সড় সাইবার প্রতারণা চক্র বা হাওয়ালা (Hawala) কারবার চলছিল। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ঝাড়খণ্ডের দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে এক ব্যক্তি সাইবার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য, মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সূত্র খতিয়ে দেখে। এরপরই জানা যায়, ঝাড়খণ্ডের দুই ব্যক্তি নিউটাউনের ২০ নম্বর জলের ট্যাঙ্কের কাছে একটি গেস্ট হাউসে থাকছেন এবং সেখান থেকেই সন্দেহজনক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে।
এই তথ্য হাতে পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে পুলিশ আচমকাই গেস্ট হাউসে হানা দেয়। পুরো ভবন ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। ঘরের ভিতরে একাধিক ব্যাগে ভরা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে অনেক সোনাও। এত বেশি টাকা ছিল যে সেগুলি গোনার জন্য রাতে ব্যাঙ্ক থেকে বিশেষ নোট গোনার মেশিন আনা হয়।
এই টাকা কোথা থেকে এসেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত ‘জামতাড়া মডেল’-এ অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহ করা হতে পারে। আবার অন্য একটি সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের সন্দেহ, এটি হাওয়ালার মাধ্যমে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে অবৈধভাবে টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। ভুয়ো কল সেন্টার চালানোর দিকটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে আটক দুই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ জানার কাজ চলছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না বা এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বিধাননগর পুলিশ।


