কলকাতা: কখনও ডিজিট্যাল অ্যারেস্ট তো কখনও কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের ওটিপি চাওয়া, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়ার নানান উপায় আছে সাইবার অপরাধীদের কাছে। তাদের ‘সফট টার্গেট’ মূলত বয়স্করা। তবে এবার চাকুরীজীবীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাফ করে দিতে নতুন স্ক্যাম নিয়ে সতর্ক করল রাজ্য পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবার সতর্ক করল এক নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণা নিয়ে, যার নাম ‘বস স্ক্যাম’ (Boss Scam)। যেখানে প্রতারকরা নিজেদের কোনও সংস্থার সিইও, ডিরেক্টর বা উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে কর্মীদের কাছে ফোন, ই-মেল বা মেসেজ পাঠায়। সাধারণত জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠানো, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়া বা কোনও গোপন নথি শেয়ার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরিস্থিতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে কর্মীরা যাচাই না করেই নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মতে, এই ধরনের প্রতারণার মূল অস্ত্র হল ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’। অর্থাৎ মানুষের বিশ্বাস ও মানসিক চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই ফাঁদ পাতে সাইবার অপরাধীরা। অনেক সময় প্রতারকদের পাঠানো ই-মেল বা মেসেজ এতটাই বিশ্বাসযোগ্য হয় যে তা আসল বলেই মনে হয় (Boss Scam)।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
- কোনও জরুরি আর্থিক নির্দেশ পেলে সরাসরি ফোন করে বা অফিসের সরকারি মাধ্যমে তা যাচাই করুন।
প্রেরকের ইমেল, ফোন নম্বর বা মেসেজিং অ্যাকাউন্ট ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। - প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত আর্থিক অনুমোদন ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কখনও এড়িয়ে যাবেন না। তাড়াহুড়ো করে কোনও তথ্য বা টাকা পাঠানোর আগে অন্তত একবার নিশ্চিত হয়ে নিন।
- পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত আর্থিক অনুমোদন ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কখনও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তথ্য যাচাই করলে বড় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
কোনও সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ১৯৩০ নম্বরে ফোন করা বা জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানানোর আবেদন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তাদের বার্তা, “বিশ্বাস করার আগে যাচাই করুন, টাকা পাঠানোর আগে দু’বার ভাবুন।”


