Aaj India Desk,কলকাতা: তারাতলা গুদাম ধসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ‘কালী’ নামে পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান পাশ হত না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উল্লেখ করা ‘কালী’ আসলে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং একসময় তাঁর ওএসডি (Officer on Special Duty) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তৃণমূল সরকারের আমলে পুরসভার বিভিন্ন নিয়োগ, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বহুতলের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলত।
প্রশাসনিক জীবনেও কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফল্যের নজির রয়েছে। ২০০৩ সালে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় তিনি রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। যদিও পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণকালেই তিনি সেই চাকরি ছেড়ে আবার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে ফিরে যান।
২০১০ সালের দিকে তিনি কলকাতা পুরসভায় ডেপুটেশনে যোগ দেন। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়ার পর কালীচরণকে ওএসডি পদে নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
তারাতলা গুদাম ধসের তদন্তে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ফের আলোচনায় এসেছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, তদন্ত এগোলে পুরনো বহু বেআইনি নির্মাণ ও প্ল্যান অনুমোদনের বিষয় সামনে আসতে পারে। ফলে তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও।


