Aaj India Desk, কলকাতা : বাঙালি সংসারে একটা পুরনো কথা আছে। মাসের শেষে পকেট ফাঁকা হলেও খাতায়-কলমে হিসাব নাকি ঠিকঠাক থাকে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির খাতা খুললে অবশ্য সেই হিসাব মেলানো এখন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। ঋণের অঙ্ক লাখ কোটি পেরিয়েছে, সুদের বোঝা রাজস্বের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (West Bengal Budget 2026) পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগেই রাজ্যের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, সুদ পরিশোধের চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৫ বছরে ঋণের বহর কতটা বেড়েছে?
সরকারি নথি ও বাজেটের (West Bengal Budget 2026) পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শেষে পশ্চিমবঙ্গের মোট ঋণের পরিমাণ ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের সময় পশ্চিমবঙ্গের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকা। গত দেড় দশকে সেই ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের মাথাপিছু ঋণের বোঝা প্রায় ৭০ হাজার টাকারও বেশি। একই সঙ্গে রাজ্যের ঋণ-জিএসডিপি অনুপাত প্রায় ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি।
ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি উদ্বেগের বিষয় হল সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ। বিভিন্ন আর্থিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, রাজ্যের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ পুরনো ঋণের সুদ মেটাতেই ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করার আর্থিক পরিসর সীমিত হয়ে পড়ছে।
নীতি আয়োগের ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী, রাজ্যের রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে আর্থিক স্বাস্থ্য সূচকে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান দেশের বেশ কয়েকটি বড় রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
সরকারি মহলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ঋণ ও সুদ বাবদ বিপুল অঙ্কের দায় মেটাতে হবে রাজ্যকে। পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প, বেতন, পেনশন এবং উন্নয়নমূলক ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পুরনো ঋণের বিশাল সুদ মেটাতেই যখন বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে, তখন উন্নয়নের নতুন খাতে টাকা আসবে কোথা থেকে? সেই উত্তর খুঁজতেই নজর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের বাজেট (West Bengal Budget 2026) বক্তৃতার দিকে। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, আগামীকালের বাজেটে রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলার রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সেল গঠন, উচ্চ সুদের পুরনো ঋণের পুনর্গঠন এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ঋণের মহাসমুদ্রে থাকা বাংলাকে ডবল ইঞ্জিন সরকার এবং স্বপন দাশগুপ্ত উদ্ধার করতে পারেন কিনা সেটাই এবার দেখার।


