Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা এবং লোকসভায় ভাঙনের পর ইতিমধ্যেই তৃনমূল নেতাদের একাংশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছেড়ে পদত্যাগ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাংগঠনিক সংকটের মুখে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে অন্যতম প্রবীণ নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) নিয়ে। দলীয় সূত্রে খবর, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নেতৃত্বের তরফে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই জল্পনাকেই কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে।
সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রভাব ?
কিছুদিন আগেই তৃনমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এর পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর কোনো মামলা লড়বেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের দায়িত্বে থাকলে তিনি দলত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।
তবে অভিষেক সেই সময় জানিয়েছিলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর থেকে অনেক বর্ষীয়ান এবং তাঁর অভিষেককে কটু কথা বলার অধিকার রয়েছে। এর পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতভেদ মিটিয়ে নেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিষেককে নিজের ‘ছেলের মতো’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
মানেকার উপস্থিতি নিয়েই সমস্যা ?
এই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সম্প্রতি দলের একটি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় অন্য আইনজীবীদের আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই প্রেক্ষিতে রাজ্যসভার সাংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও উঠে আসে। অতীতে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করার অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে আরও দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রস্তাবেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে অবহেলা করে অন্য আইনজীবী প্রবেশ করালে তাঁর আপত্তি থাকবেই।
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান আইনি মুখ হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা এবং ভোটার তালিকা বিতর্ক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে দল ও রাজ্যের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেছেন। তাঁর মতো দীর্ঘদিনের আইনি মুখকে ঘিরে এমন আলোচনা সামনে আসায় আগামী দিনে তৃণমূলের আইনি এবং সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


