প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত পদ্মশ্রী পুরস্কারের (Padma shri) তালিকায় সাহিত্য, ক্রীড়া, চারুকলা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সমাজসেবার পাশাপাশি বিনোদন জগতের একাধিক বিশিষ্ট নাম জায়গা করে নিয়েছে। সেই তালিকায় অন্যতম উজ্জ্বল সংযোজন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)।
১৯৬৮ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রসেনজিৎ (Prosenjit Chatterjee)। ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর অভিনয়যাত্রা। ছোট বয়সেই অভিনয় দক্ষতার জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেন তিনি কিন্তু পড়াশোনার কারণে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে সরে আসতে হয় তাঁকে।
নায়ক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু ১৯৮৩ সালে বিমল রায় পরিচালিত ‘দু’টি পাতা’ ছবির মাধ্যমে। এরপর ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অমরসঙ্গী’ ছবির বিপুল সাফল্যই তাঁকে পৌঁছে দেয় বাঙালির হৃদয়ের একেবারে কেন্দ্রে। অন্যদিকে ১৯৯০ সালে ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ‘আন্ধিয়ান’ ছবির মাধ্যমে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রেও পদার্পন করেন।
এর পরের ইতিহাস কার্যত বাংলা সিনেমারই ইতিহাস। ‘আতঙ্ক’, ‘১৯শে এপ্রিল’, ‘চোখের বালি’, ‘দোসর’, ‘জাতিস্মর’, ‘মনের মানুষ’, ‘অটোগ্রাফ’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘শঙ্খচিল’-সহ প্রায় চারশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে প্রসেনজিৎ (Prosenjit Chatterjee) নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হিসেবে। এছাড়া নিজে ছবি প্রযোজনাও করেছেন প্রসেনজিৎ। বাংলা সিনেমার নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অভিভাবক স্বরূপ আর দর্শকের কাছে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার প্রতীক।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার, আনন্দলোক পুরস্কার, মহানায়ক, বঙ্গবিভূষণ সহ অজস্র সম্মান। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, ‘পদ্মশ্রী’ (Padma shri)। বাংলার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অভিনেতার মুকুটে এই নতুন পালক যুক্ত হওয়াতে খুশির আমেজ গোটা টলিপাড়ায়।


