Aaj India Desk, কলকাতা : সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের দশ বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতেই রবিবার দলের বিদ্রোহী শিবিরের দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্যের উল্লেখ করে দলের তহবিল থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে ভোটে লড়ার পর সেই তহবিল নিয়েই প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
৫০ লক্ষ টাকার নির্বাচনী প্রচারণা
কুণাল ঘোষের দাবি, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) তাঁর নির্বাচনী প্রচারে মোট ২৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩৮ টাকা খরচ করেছিলেন। এর মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘পার্টি ডোনেশন’ হিসেবে আরটিজিএসের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল।
একইভাবে সন্দীপন সাহার নির্বাচনী ব্যয় ছিল ২৭ লক্ষ ১ হাজার ৩৭২ টাকা। সেই ব্যয়ের মধ্যেও ২৫ লক্ষ টাকা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন কুণাল ঘোষ।
ত্রী-প্রশ্নের মুখোমুখি বিদ্রোহী শিবির
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুণাল ঘোষ তিনটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথমত, দলের প্রতীক, কর্মীদের পরিশ্রম এবং দলের অর্থে নির্বাচন করে এসে সেই দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
দ্বিতীয়ত, যদি দলের তহবিল নিয়ে আপত্তি থেকেই থাকে, তাহলে সেই অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল কেন এবং নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহারই বা করা হল কেন?
তৃতীয়ত, যদি সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে ওই অর্থ বা তহবিল নিয়ে সমস্যা থাকে, তাহলে এখনও সেই টাকা দল বা সরকারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি কেন?
মূলত এই প্রশ্নগুলির মাধম্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তোলেন কুনাল। একই সঙ্গে সন্দীপন সাহাও ভুল পথে এগোচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজের প্রয়োজনে দলের অর্থ ব্যবহার করার পর সেই তহবিলকেই আক্রমণ করা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দলের অর্থ গ্রহণের পর সেই তহবিল নিয়েই প্রশ্ন তোলার প্রবণতাকে তিনি ‘বেইমানি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রথম থেকেই বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে এসেছেন কুনাল ঘোষ। দলের সাংগঠনিক সংকটে এখনও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে লড়ছেন তিনি। তবে এইবার দলীয় তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়াতে রীতিমত ফুঁসে উঠেছেন তিনি। বারবার এই বিষয়ে ঋতব্রত ও বিদ্রোহী শিবিরকে আক্রমণও করেছেন তিনি। তবে এসব করে আদৌ তহবিল সমস্যার সমাধান হয় কিনা সেটাই দেখার।


