35.9 C
Kolkata
Thursday, June 18, 2026
spot_img

বিধানসভায় শুভেন্দুর ঘরে মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক! তবে কি রাজনৈতিক বরফ গলছে?

Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের (Budget Session) প্রথম দিনেই রাজ্যের রাজনীতিতে দেখা গেল এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর কক্ষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তৃণমূল (TMC)-এর মমতাপন্থী পাঁচজন শীর্ষ বিধায়ক। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সি।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের স্বার্থ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন তাঁরা। তবে এই বৈঠক হঠাৎ করে হয়নি। গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া একাধিক রাজনৈতিক ঘটনার পরই এই আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।

স্বপন সমাদ্দারের গ্রেফতারির পরই শুরু যোগাযোগ

বেলেঘাটার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারের গ্রেফতারির পরই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ বার্তা পাঠান কুণাল ঘোষ। তিনি বার্তায় লেখেন, “এই রাজনৈতিক হয়রানি এবার থামানো দরকার। রাজ্যের বহু জায়গায় নিচুতলার নেতা-কর্মীদের পুলিশি হেনস্থা করা হচ্ছে। যাঁরা সত্যিই অপরাধ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উঠছে।”

সূত্রের দাবি, সেই বার্তার জবাবে কুণালকে জানানো হয়, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা সম্ভব নয়। ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখোমুখি বসে কথা বলাই ভালো হবে। সেই প্রস্তাবে সম্মতিও জানান কুণাল ঘোষ।

 

মমতার নিরাপত্তা নিয়েও বার্তা

এরপর বুধবার রাতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুই পুরনো পিএসও-কে সরিয়ে নেওয়া হলে তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর ফের মুখ্যমন্ত্রীকে বার্তা পাঠান কুণাল ঘোষ। তিনি অনুরোধ করে বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের নিয়ম যাই থাকুক, ব্যক্তিগত সৌজন্যের জায়গা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেন বিষয়টি আর একবার বিবেচনা করেন এবং মমতাদির পুরনো পিএসও টিমকে ফিরিয়ে দেন।”

কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা?

নবান্ন ও বিধানসভা সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন তৃণমূলের এই পাঁচ বিধায়ক। প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো নিরাপত্তা টিম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি। দ্বিতীয়ত, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও বিভিন্ন মামলার বিষয়টি। তৃতীয়ত, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি। তাঁদের বক্তব্য, হকারদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ করা উচিত নয় এবং প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষদীয় বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত পাঁচজন বিধায়কই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত। নেত্রীর অবস্থান থেকে সরে নয়, বরং রাজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে-কুণাল ঘোষের এই উদ্যোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ইতিবাচক মনোভাব কি রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশে কিছুটা হলেও বরফ গলাতে পারে?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন