কলকাতা: ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, আগের সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ করা হবে না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নামে ও নতুন কাঠামোয় সেগুলিকে চালু রাখা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করেছে।
এবার নজর ছিল যুবসাথীর পরিবর্তে ঘোষিত ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ (Yuvashakti)-এর দিকে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া ও ভাতা প্রদানের সময়সূচি নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যুবশক্তি (Yuvashakti) প্রকল্পের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং যোগ্য বেকারদের নাম নথিভুক্ত করার কাজ শুরু করা হবে।
ছাব্বিশের নির্বাচনী ইশ্তেহারে বিজেপি ঘোষণা করেছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের পাশাপাশি বেকার যুবক যুবতীদের অ্যাকাউন্টেও মাসে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা ঢুকেছে বলে দাবী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার অপেক্ষায় দিন গুনছেন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা।
কবে চালু হবে?
মালদায় এক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে যুবশক্তি (Yuvashakti) প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হয়েছে। বার্ধক্য ভাতা এবং যুবশক্তি নিয়ে আমাদের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে, খুব শীঘ্রই তা চালু হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যুবশক্তি (Yuvashakti) ভরসা কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য বেকারদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, চলতি মাস বা আগামী মাসের মধ্যেই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। যদিও সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি।
এছাড়াও নির্বাচনের আগে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এককালীন ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বিজেপি। তবে সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি। ফলে যুবশক্তি প্রকল্পের পাশাপাশি ওই আর্থিক সহায়তা নিয়েও বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে।


