কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে মমতার (Mamata Banerjee) হাত থেকে ক্ষমতা যেতেই ‘নব্য তৃণমূল’ তৈরি করেছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। ৬৪ জন বিধায়ক নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত। আর মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান (Akharuzzaman)। সেই ‘আসল তৃণমূলের’ মুখ্য সচেতক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান (Akharuzzaman) এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আল্টিমেটাম বেঁধে দিলেন।
হয় অভিষেক নয় তৃণমূল, মমতাকে (Mamata Banerjee) যে কোনও একটি বেছে নিতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “অভিষেকের হাত ছাড়লে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আছি।” আখরুজ্জামানের (Akharuzzaman) দাবি, বর্তমান সংকটের মূল কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও দল পরিচালনার ধরন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্রোহী শিবিরের আপত্তি তৃণমূল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নয়, বরং অভিষেককে কেন্দ্র করেই। সেই কারণেই তিনি নেত্রীকে কার্যত ‘মমতা না অভিষেক’ এই কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
বিদ্রোহী শিবিরের তরফে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবমুক্ত হয়ে দলকে পুনর্গঠন করা হয়, তাহলে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বেই থাকতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, সেই দাবি মানা না হলে জোড়াফুল প্রতীককে সামনে রেখেই ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার পথেও হাঁটতে পারেন তাঁরা।
বলা বাহুল্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের সংগঠনকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “গঠন নেই, সং রয়ে গেছে”। তবে প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের কেউই কিছু বলেননি। এমনকি বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়কে বলতে শোনা গিয়েছে, “আই মিস ইউ দিদি”। বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, অভিষেক না তৃণমূল, কোনটিকে বাছবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?


