কলকাতা: সোমবার সংসদের অধিবেশন। তার আগে কার্যত ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা (Rebel TMC MP)। রবিবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন সায়নী ঘোষ ও মালা রায়। শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা দিল্লিতেই রয়েছেন। লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি নিয়ে জল্পনার মধ্যেই ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)।
সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে তিনি জানান, বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে সাংসদের সংখ্যা ২০ নয়, ২২। তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ এর অর্থ দাঁড়ায় আরও দু’জন তৃণমূল সাংসদ খুব শীঘ্রই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। যদিও ওই দুই সাংসদের নাম প্রকাশ্যে আনেননি কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)। ফলে তাঁদের পরিচয় নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল সাংসদের বৈঠক এবং দলীয় অবস্থান নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে কাকলির এই দাবি তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের (Rebel TMC MP) পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
সূত্রের খবর, সোমবার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তাঁরা নিজেদের আলাদা সংসদীয় ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাতে পারেন। তবে শুধু সেটাই নয়, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাও সামনে আসছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন।
সেক্ষেত্রে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্য সচেতক পদে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বহাল রাখার আর্জিও স্পিকারের কাছে জানানো হতে পারে। সূত্রের দাবি, সংসদে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে বিদ্রোহী সাংসদরা (Rebel TMC MP) বসার আসন পরিবর্তনের দাবিও তুলতে পারেন। বিরোধী বেঞ্চ ছেড়ে তাঁদের আসন এনডিএ সাংসদদের কাছাকাছি সরিয়ে আনার আবেদন জানানো হতে পারে।
তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে সোমবারের ঘটনাপ্রবাহ তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। বিদ্রোহী শিবির ঠিক কোন পথ বেছে নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে লোকসভায় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের একটি বড় অংশ।


