Aaj India Desk, কলকাতা: দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি (BJP) সরকারের পূর্ণ মন্ত্রিসভার (Cabinet) দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের হাতেই রেখেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্র (পুলিশ), তথ্য ও সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন নিশীথ প্রামাণিক। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। খাদ্য ও সমবায় দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন দফতর। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। স্কুলশিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও বস্ত্র দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মন। শিল্পমন্ত্রী করা হয়েছে তাপস রায়কে।
পর্যটন ও বিধানসভা বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে থাকছেন শঙ্কর ঘোষ। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হয়েছেন মনোজ ওরাওঁ। পরিবহণ ও শ্রম দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অর্জুন সিং। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও গ্রন্থাগার দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গৌরীশঙ্কর ঘোষকে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী হয়েছেন জগন্নাথ চ্যাটার্জি। অর্থ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তথ্যপ্রযুক্তি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের দায়িত্বে থাকছেন কল্যাণ চক্রবর্তী।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী হয়েছেন শারদ্বত মুখার্জি। সেচ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অরূপকুমার দাস। পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দায়িত্বে থাকছেন অজয়কুমার পোদ্দার। কৃষি মন্ত্রী হয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী করা হয়েছে মালতি রাভা রায়কে। মৎস্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজেশ মাহাত। ক্রীড়া ও ক্রেতাসুরক্ষা মন্ত্রী হয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।
এছাড়াও মন্ত্রিসভায় একাধিক প্রতিমন্ত্রীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশাল লামা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আনন্দময় বর্মন পরিবহণ ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী, কৌশিক চৌধুরী স্কুলশিক্ষা ও দমকল প্রতিমন্ত্রী এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী তথ্য ও সংস্কৃতি ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের অভিজ্ঞ ও নতুন মুখদের মধ্যে সমন্বয় করারও চেষ্টা দেখা গিয়েছে। এখন নজর থাকবে নতুন সরকার কত দ্রুত কাজ শুরু করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোয় তার দিকে।


