Aaj India Desk, কলকাতা : ফিরহাদ হাকিমের কলকাতা পুরসভার মেয়র (Kolkata Mayor) পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই চলছে জল্পনা। কলকাতা পুরসভার রাশ টেনে রাখতে দ্রুত নতুন মেয়র নির্ধারণ করতে হবে তৃনমূলকে। সেই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম উঠে এলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলীয় বৈঠক আয়োজন করেছিলেন তৃনমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলেই সেই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে হঠাৎই আজ সেই বৈঠক বাতিল করে দেন তিনি।
কেন বাতিল হল বৈঠক?
রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে পুরসভার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব (Kolkata Mayor) এবং প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে খবর পৌঁছায় যে, বৈঠককে কেন্দ্র করে দলীয় কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের একাংশও অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। কয়েকজন কাউন্সিলর সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জনরোষের মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত হওয়া নিয়ে আপত্তি জানান। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলীয় নেতৃত্ব বৈঠক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা
গতকালই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত পরাজয়ের পর এবং দল ভাঙনের মুখে এটি জোটের সাথে তৃনমূলের প্রথম বৈঠক। ফলে তার আগে কোনোভাবে ফের ডিম পাথরের বৃষ্টি ও জনতার বিক্ষোভের মুখে পরে ভাবমূর্তি খোয়াতে নারাজ তৃনমূল কংগ্রেস। সম্ভবত সেই কারণেই তড়িঘড়ি বাতিল করা হয়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি।
তবে পুরসভার আগামী মেয়র (Kolkata Mayor) কে হবে তা এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বৈঠক বাতিল হওয়ায় নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং পুরসভার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন দলীয় নেতৃত্ব পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ কবে ঘোষণা করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


