Aaj India Desk, কলকাতা : বিজেপির স্বপ্নকে সত্যি করে তৃনমূল দল আজ ভেঙে চুরমার। গত বুধবারই দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ক্ষোভ উগরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নব্য তৃনমূল দল (New TMC) গঠন করেন। ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনে বিরোধী দলনেতার আসন আলো করে বসেন ঋতব্রত। এর পরেই অবশ্য শুরু হয় নতুন উত্তেজনা। নব্য ও আদি তৃনমূলের সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে দলে। এবার নতুন পুরোনো বাদ দিয়ে ‘আসল তৃনমূল’ দল গড়তে উদ্যোগী হয়েছেন দলেরই সদস্যরা।
আসল তৃনমূল গড়বে কারা ?
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বর্তমানে যে জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দলের অসন্তুষ্ট সাংসদ ও বিধায়কদের ভবিষ্যৎ অবস্থান। নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলের বর্তমান নেতৃত্ব ও সংগঠন পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বেড়েছে। সেই অসন্তোষের জেরে আগামী ৭ জুন ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে ‘আসল তৃণমূল’ দল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই দল গঠন হতে পারে। তাঁর সাম্প্রতিক পদত্যাগ, দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা এবং কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আগেই কি ইঙ্গিত মিলেছিল ?
আগেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বৈঠকে যোগদান ও বিভিন্ন সময়ে দল বিরোধী কাজের মধ্যে দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েই দল থেকে যে তিনি আলাদা হতে পারেন সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
রাজনীতিতে মতভেদ নতুন নয়, কিন্তু তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি যেন নতুন এক প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। একসময় তৃণমূল, তারপর ‘নব্য তৃণমূল’ (New TMC), এবার ‘আসল তৃণমূল’! প্রশ্ন উঠছে, এর পরে কি আরও কোনও ‘প্রকৃত’, ‘মূল’ বা ‘খাঁটি’ তৃণমূলের আবির্ভাব হবে? যদিও নামের আগে বিশেষণ যোগ করলেই জনসমর্থন বাড়ে না। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দলের নাম নয়, নেতৃত্ব, কর্মসূচি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকেই বিচার করবেন। তাই নতুন শিবির তৈরির অঙ্ক যতই জমজমাট হোক, তাতে রাজনৈতিক লাভ হবে কি না, সেই উত্তর এখন সময়ই দেবে।


