Aaj India Desk, কলকাতা : গতকাল থেকেই রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম দেওয়া চালু হয়েছে। কিন্তু সেই ফর্মের পৃষ্ঠা দেখেই আক্কেল গুড়ুম মানুষের। প্রকল্পের আবেদনপত্রে রয়েছে ১২ টি পৃষ্ঠা। সেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও প্রমাণ দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। এই ১২ পাতার বিশাল আবেদনপত্র ঘিরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ। একাধিক নথি জমা দেওয়ার শর্ত এবং দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। এবার সেই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলো রাজ্য সরকার।
ফর্মের পৃষ্ঠা ও তথ্যের বিবরণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকে অতিরিক্ত জটিল করা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে বলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) ফর্ম পূরণ করাটা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও জটিল। অনেকেরই এই ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে খুব অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে।” সাধারণ মানুষের এই ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ও হয়রানির অভিযোগও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বার করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য জেলা জুড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সহায়তা শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই GP কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও বিস্তারিত সরকারি গাইডলাইন প্রকাশ হয়নি, তবুও প্রতিটি ব্লকের BDO-দের স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হবে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ রেখে সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা দেওয়া এবং কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা স্ট্যাম্পেড এড়ানো।
জেলার বিভিন্ন সহায়তা কেন্দ্র থেকেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) আবেদনপত্র পূরণের কাজে সহযোগিতা করা হবে বলে একাধিক BDO জানিয়েছেন। প্রশাসনের আশা, ধাপে ধাপে আবেদন গ্রহণ এবং পরিষেবা বণ্টনের মাধ্যমে চাপ কমানো সম্ভব হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও বিভ্রান্তিও কমবে।


