Aaj India Desk, কলকাতা : গতকাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ১৬ টি জেলার ১৫২ টি আসনে প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হয়েছে। এর পরেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) তরফে প্রকাশিত হয়েছে ভোটারদের পরিসংখ্যান তালিকা। শুক্রবার সকালে প্রকাশিত সেই তালিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কী কী তথ্য উঠে এসেছে ?
মোট ভোটার সংখ্যা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পরবর্তী ডিলিশন এবং দফাভিত্তিক পরিসংখ্যান নিয়ে তৈরি ওই তালিকা অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোট হওয়া ১৫২টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩.৬০ কোটি। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে এই একই আসনগুলিতে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩.৭৮ কোটি। এই হিসেবে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটার কমেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের (ECI) সামগ্রিক তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) শেষে গোটা রাজ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার নাম বাদ পড়েছে বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রয়েছে।
কেনো বিতর্ক ?
তালিকায় প্রকাশিত এই দুই পরিসংখ্যানের তুলনা থেকেই মূল প্রশ্ন উঠছে। যদি প্রথম দফার ১৫২টি আসনে মাত্র ১৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে, তাহলে বাকি ১৪২টি আসনে বাকি প্রায় ৭২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই তথ্যকেই পরিসংখ্যানগতভাবে অস্বাভাবিক বলে দাবি করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত মোট ভোটার সংখ্যা এবং মোট কতজন ভোট দিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি সংখ্যার নিরিখে প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন (ECI) কেবলমাত্র শতাংশের ভিত্তিতে ভোটদানের হার জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র শতাংশের হিসাব প্রকাশ করলে প্রকৃত ভোটদানের মাত্রা, ভোটার উপস্থিতি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক অংশগ্রহণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন এবং সিপিএম নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
নীরব কমিশন
তবে এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। কমিশন সাধারণত চূড়ান্ত ও যাচাইকৃত তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করে থাকে। ফলে দ্বিতীয় দফার আগেই এই সংখ্যাগত তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল ফের বাংলার বিধানসভার দ্বিতীয় দফার ভোট। বাকি ৭টি জেলায় মোট ১৪২টি আসনে এই দিন ভোট সম্পন্ন হবে। তার আগে সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশিত না হলে ভোটাররা প্রভাবিত হতে পারেন বলে জানিয়েছে রাজনৈতিক মহল।


