Aaj India Desk, কলকাতা : পুজোর আর মাত্র একমাস। হাতে গোনা কয়েকদিন থাকতে ইতিমধ্যেই পুজোর প্যান্ডেল থেকে লাইটের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে কলকাতায়। তবে এই জোগাড়যন্ত্রের মাঝেই ফের মাথায় হাত পুজো উদ্যোক্তাদের। বুধবার দুর্গাপুজোর আগে LED বিজ্ঞাপন ঘিরে নতুন নিয়ম জারি করল কলকাতা পুরসভা। পুজোর সময় LED বিজ্ঞাপন দিতে হলে পুরসভার অনুমতি নিতে হবে এবং কর (LED Advertisement Tax) জমা দিতে হবে। LED বিজ্ঞাপনের সঙ্গে পুরসভার দেওয়া অনুমতি নম্বরও প্রদর্শন করতে হবে। পুরসভার এই নির্দেশের জেরেই এবার পুজো উদ্যোক্তা এবং বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
LED-তে কত কর?
পুরসভা সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, LED বিজ্ঞাপনের (LED Advertisement Tax) ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আলোর আকার অনুযায়ী দৈনিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ছোট ও মাঝারি LED-এর ক্ষেত্রে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং বড় বা ‘জাম্বো’ LED-এর ক্ষেত্রে তা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনে থাকবে QR কোড
পুজোর সময় হোর্ডিং, ব্যানার ও LED বিজ্ঞাপনের অনুমতিকে আরও নিয়ন্ত্রিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে পুরসভা। অনুমতি দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনে একটি পারমিট ID নম্বর থাকবে। সেই অনুমতি নম্বরের সঙ্গে বিশেষ QR কোডও যুক্ত করা হবে, যাতে অনুমোদিত বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা যায় এবং জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হয়।
হোর্ডিং-ব্যানারেও কড়া নিয়ম
শুধু LED নয়, পুজোর সময় কলকাতার রাস্তায় হোর্ডিং, ব্যানার ও গেট বসানোর ক্ষেত্রেও এবার নিয়ম আরও স্পষ্ট করেছে পুরসভা। প্রতিটি হোর্ডিং, ব্যানার বা গেটের জন্য পুরসভার NOC নেওয়া বাধ্যতামূলক। পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞাপন দফতরে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। ৩ অক্টোবরের আগে রাস্তায় পুজোর হোর্ডিং, ফ্লেক্স বা ব্যানার লাগানো যাবে না।
বিজ্ঞাপনের জন্য তৈরি অস্থায়ী বাঁশের গেটের সর্বোচ্চ উচ্চতা ২২ ফুট রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হোর্ডিং, ব্যানার বা ফ্লেক্স এমনভাবে বসাতে হবে, যাতে স্থায়ী হোর্ডিং, পথবাতি বা যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের কাজে কোনও বাধা না তৈরি হয়। পুজো শেষ হওয়ার পরও বিজ্ঞাপন সরানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে পুরসভা। নির্দেশ অনুযায়ী, রাস্তা থেকে পুজোর সমস্ত হোর্ডিং ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে।
অনুমোদিত হোর্ডিংয়ে পুরসভার অনুমতি নম্বরের পাশাপাশি পুজো কমিটির নাম এবং বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থার নাম ও ফোন নম্বরও উল্লেখ করতে হবে। ফলে পুজোর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় এবার অনুমতি, কর এবং নজরদারি তিন ক্ষেত্রেই পুরসভার নিয়ন্ত্রণ আরও স্পষ্ট হল।


