Aaj India, উত্তর ২৪ পরগনা: প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দলের অন্দরে। একাধিক বিধায়ক টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভের আগুন ক্রমশই বাড়ছে। উপরমহল থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও, বিদ্রোহের সুর যে থামছে না, তা বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতেই তৃণমূল(TMC) ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন নোয়াপাড়ার (Noapara) প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং (Sunil Singh)। তাঁর ক্ষোভের মূল কারণ নোয়াপাড়ার এবারের প্রার্থী তৃণাঙ্কর ভট্টাচার্য (Trinankur Bhattacharya)-কে ঘিরে। সুনীলের অভিযোগ, বীজপুর থেকে তৃণাঙ্কুরকে এনে প্রার্থী করেছে দল, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলের কর্মীরাও। ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, চারবারের বিধায়ক মঞ্জু বসুকে প্রার্থী না করে অপমান করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)-এর এই সিদ্ধান্ত নোয়াপাড়ার মানুষ মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে তাঁর মত, রাজ্যে যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনই নোয়াপাড়াতেও পরিবর্তন অনিবার্য।
উল্লেখ্য, মঞ্জু বসুও আগেই টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, টাকা না দেওয়ার কারণেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। এদিকে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুনীল একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন-“এত দূর থেকে কেন তৃণাঙ্কুরকে আনা হল? এলাকার কাউকে প্রার্থী করা হল না কেন? মঞ্জু বসু বা মলয় ঘোষকে কেন সুযোগ দেওয়া হল না? যোগ্য মানুষের তো অভাব ছিল না। এখনও নোয়াপাড়ার মানুষ বলছেন, বাইরের প্রার্থীকে তাঁরা ভোট দেবেন না।”
প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষ দিকেও সুনীল সিংয়ের দলবদল নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তিনি আবার অর্জুন সিং (Arjun Singh)-এর ভগ্নিপতিও। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নোয়াপাড়ার গারুলিয়ায় একটি রাজনৈতিক সভা থেকে ফেরার পথে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখা যায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে। সেই সময় শুভেন্দু তাঁকে পদ্মফুল উপহার দেন এবং দু’জনকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়। পাল্টা শুভেন্দুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন সুনীল।
তবে বর্তমানে দলের প্রতি গভীর অভিমান ঝরে পড়ছে তাঁর কথায়। সুনীলের সাফ বক্তব্য, “দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে না। যদি দলই বিশ্বাস না করে, তাহলে সেখানে থাকার মানে কী? আমার মনে হয়, যেখানে বিশ্বাস নেই, সেখানে থাকা উচিত নয়।”


