Aaj India Desk, কলকাতা: বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রাজ্যের ওপর বিপুল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ বহুবার বিভিন্ন মঞ্চে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। জনসভা থেকে প্রশাসনিক বৈঠক -প্রায় সর্বত্রই এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন তিনি। তবে এবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Basu)। শুধু প্রতিবাদই নয়, পরিসংখ্যান তুলে ধরে নিজের বক্তব্যও ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
বিমান বসুর কথায়, শাসকদলের নেতারা বারবার বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কারণ আগের সরকারের রেখে যাওয়া ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকার ঋণ। কিন্তু বর্তমানে সেই ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এরপরই তিনি স্পষ্ট করেন, এই ঋণ কেবলমাত্র বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনকালের নয়, বরং স্বাধীনতার পর থেকে ধাপে ধাপে জমা হওয়া মোট ঋণের পরিমাণ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, স্বাধীনতার পর থেকে একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর আমলে এই ঋণ সঞ্চিত হয়েছে -ডঃ প্রফুল্ল ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য -সব সময়ের ঋণ মিলিয়েই ওই অঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র বামফ্রন্ট সরকারের ঘাড়ে পুরো দায় চাপানো সঠিক নয় বলেই দাবি তাঁর।
বিমান বসু আরও বলেন, গত ৬৪ বছরে যেখানে মোট ঋণ ছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৫ লক্ষ কোটিরও বেশি হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের সময়েই হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, তাহলে এই বিপুল ঋণ বৃদ্ধির দায় কে নেবে? উন্নয়নের অজুহাতে যাঁরা আগের সরকারের দিকে আঙুল তোলেন, তাঁদেরই কি এবার জবাব দেওয়া উচিত নয়?


