29 C
Kolkata
Sunday, April 5, 2026
spot_img

“স্টিম রোলার” হুমকি ভাইরাল, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা

Aaj India Desk,দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বহরমপুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। ভোটের আবহে ফের সামনে এল হুমকি, উত্তেজনা আর প্রশাসনিক কড়াকড়ির ছবি ।অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের এক স্থানীয় নেতা হাফিজুল মোল্লা। তিনি ক্যানিং (Canning) -এর জীবনতলা এলাকায় এক প্রকাশ্য সভা থেকে এমন মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তোলে। অভিযোগ, ভোট গণনার দিন ‘স্টিম রোলার’ চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি যা কার্যত বিরোধীদের উদ্দেশ্যে পরোক্ষ হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হাফিজুল মোল্লা শুধু দলীয় নেতা নন, তিনি দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও। ফলে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে একজন নির্বাচিত জন প্রতিনিধির মুখে এমন ভাষা কতটা গ্রহণযোগ্য?ঘটনার পরই বিষয়টি নজরে আসে নির্বাচন কমিশন( Election Commission of India) -এর। কমিশন কঠোর অবস্থান নেয় এবং দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে হাফিজুল মোল্লাকে। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে রাজ্যে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে শাসকদলের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে এই মন্তব্য ঘিরে। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে ভোটের আগে এভাবে কি গণতন্ত্রকে চাপে ফেলা হচ্ছে? নাকি এটি কেবলই এক নেতার বেপরোয়া মন্তব্য? ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট এই নির্বাচন শুধু লড়াইয়ের নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ আর শৃঙ্খলারও বড় পরীক্ষা।

হুমকির ভাষা এবার ছড়িয়ে পড়েছে মোবাইলের পর্দা পেরিয়ে জনমনে। হাফিজুল মোল্লার সেই বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে সমাজমাধ্যমে। কয়েক সেকেন্ডের সেই ক্লিপেই স্পষ্ট তাঁর অবস্থান আর তাতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ২৯ ভোট, ৪ মে গণনা। গণনার সন্ধ্যার পর থেকে বেইমান ও বিশ্বাসঘাতক দের উপরে ‘স্টিম রোলার’ চলবে এই কথা আমরা খোলা আকাশের নিচে বলছি। কারণ, এই লড়াই আমাদের জিততেই হবে।”

এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে সরাসরি ভয় দেখানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পৌঁছে যায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর নজরে। আর তারপরই আসে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ।

কমিশনের নির্দেশে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় হাফিজুল মোল্লাকে। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনার পর প্রশ্ন আরও জোরালো ভোটের আগে এমন ভাষা কি শুধু আবেগ, নাকি পরিকল্পিত চাপ তৈরি?আর প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ তা কি ভবিষ্যতের জন্য বার্তা?রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, আর তার মধ্যেই স্পষ্ট এবার নজর শুধু ভোটে নয়, ভাষা আর আচরণেও।

 

 

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন