Aaj India Desk, কলকাতা: ২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক তত্ত্ব তুলে ধরলেন অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee)। তাঁর ব্যাখ্যায়, এই নির্বাচন আসলে ‘রিমোট কন্ট্রোল বনাম রিপোর্ট কার্ড’-এর লড়াই। এখানে আরসি (RC) বলতে একদিকে বিজেপির ‘রিমোট কন্ট্রোল’, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর ‘রিপোর্ট কার্ড’-কেই বোঝানো হয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, ভোটে বিজেপির অন্যতম প্রধান অস্ত্র এই ‘রিমোট কন্ট্রোল’। তাঁর দাবি, বিজেপির নিয়ন্ত্রণে থেকেই বাংলার প্রাপ্য বরাদ্দ আটকে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘এসআইআর(SIR)’-এর মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
প্রায় প্রতি নির্বাচনের আগেই নতুন কোনও তত্ত্ব সামনে এনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের আলাদা ব্যাখ্যা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপিকে আক্রমণ করতে ‘বহিরাগত তত্ত্ব’ সামনে আনা হয়েছিল। পরে পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিজেপিকে ‘জমিদার’ বলে কটাক্ষ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে ‘রিমোট কন্ট্রোল তত্ত্ব’ সামনে আনলেন অভিষেক। মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)-সহ তৃণমূল নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিজেপি দিল্লি থেকে বাংলাকে পরিচালনা করতে চায়। অভিষেকের এই ‘রিমোট কন্ট্রোল’ তত্ত্ব সেই অভিযোগকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে। অর্থাৎ, দিল্লি থেকে দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলার রাজনীতি ও প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির -এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি ‘রিপোর্ট কার্ড’-এর ব্যাখ্যাও স্পষ্ট করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির ‘রিমোট কন্ট্রোল’-এর বিপরীতে নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজকেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। রাজ্যে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু থাকা বিভিন্ন প্রকল্প -যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্য সাথী-সহ একাধিক উদ্যোগকে তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারে। দাবি করা হচ্ছে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, উন্নয়ন এবং মানুষের স্বপ্নপূরণের বাস্তব চিত্রই এই ‘রিপোর্ট কার্ড’।
এই প্রসঙ্গে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিষেক লেখেন, “২০২৬-এর লড়াই আসলে দুটি ‘RC’-র লড়াই। একদিকে রয়েছে বিজেপির রিমোট কন্ট্রোল (REMOTE CONTROL)। তাদের এই রিমোট কন্ট্রোলের লক্ষ্য হল বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে দেওয়া, SIR-এর মাধ্যমে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের বীজ বপন করা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবহার করা।” তিনি আরও লেখেন, “তারা বাঙালিদের ‘রোহিঙ্গা’ এবং ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেয় এবং নির্দোষ পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা করে। বারবার আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের মণীষী, আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘদিনের রীতিনীতিকে অপমান করে। তাদের রিমোট কন্ট্রোল মিথ্যে প্রচারের জন্য লাউডস্পিকারের আওয়াজ বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু বাংলার সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ যখন বিঘ্নিত হয়, তখন তারা পুরোপুরি মৌন থাকে।”
তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের RC অর্থাৎ আমাদের ‘রিপোর্ট কার্ড’ (REPORT CARD)। কেন্দ্রের সহায়তা ছাড়াই গত ১৫ বছরে গড়ে উঠেছে উন্নয়নের এক গর্বের ইতিহাস -কাজের বাস্তবায়ন, প্রতিশ্রুতি পূরণ আর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট কার্ড, যা বদলে দিয়েছে মানুষের জীবন।” শেষে তাঁর বার্তা, “এই মাটিতে রিমোট কন্ট্রোলের দিন শেষ। দিল্লির জমিদাররা দূর থেকে বোতাম টেপা জারি রাখতে পারেন, কিন্তু বাংলা নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করবে -গর্বের সঙ্গে, সংকল্পের সঙ্গে এবং জোড়াফুলের সঙ্গে।”


