37 C
Kolkata
Friday, April 3, 2026
spot_img

ভোটের আগেই বড় টুইস্ট! শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে জল্পনা :শেষ মুহূর্তে কী সিদ্ধান্ত?

Aaj India Desk, কলকাতা: ভোটের উত্তাপে ফুঁসছে গোটা রাজ্য, আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু এখন ভবানীপুর। রাজনৈতিক মহলের নজর কার্যত আটকে রয়েছে এই একটি কেন্দ্রেই। ঠিক এই আবহেই নতুন করে চড়ল তরজা ভবানীপুরের প্রার্থী ও রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)র বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দুর বক্তব্যে উস্কানির সুর ভোটারদের উপর হামলার ইঙ্গিত রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই অভিযোগ লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কমিশনে। গত ৩১ মার্চ শুভেন্দুর করা অভিযোগকে ঘিরেই এটা পাল্টা পদক্ষেপ বলেই জানা যাচ্ছে।ভোটের ময়দানে লড়াই শুধু ব্যালটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, অভিযোগ প্রতিআভিযোগে ক্রমশ তপ্ত হচ্ছে ভবানীপুরের রাজনৈতিক আবহ। এখন দেখার, এই লড়াইয়ের পরবর্তী চাল কী হয়।

গত মঙ্গলবার সিইও(CEO) দফতরের সামনে যেন রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। প্রথমে তৃণমূলপন্থী বিএলও দের বিক্ষোভ, তারপরেই সেখানে হাজির বিজেপিপন্থী বিএলও-রাও মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায় সংঘর্ষের রূপে। দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে একের পর এক বাইক ভাঙচুরের ঘটনা সামনে আসে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই দিনই ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে আরও বিতর্ক দানা বাঁধে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে “সোজা করানো” দরকারএই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা ও সমালোচনা।

শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) র মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায়। তিনি দাবি করেন, বিএএনএস-এর ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করা উচিত। কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে লাঠি থাকাই যথেষ্ট গুলি চালানোর প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কড়া ব্যবহারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কাশ্মীরের উদাহরণ টেনে এনে বলেন, সেখানে যেমন পরিস্থিতি সোজা করা হয়েছে, এখানেও তেমন পদক্ষেপ দরকার। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতির গুরুত্ব ঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন।একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। তাঁর মতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অজয় নন্দা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ করছেন না এই অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু।

ভোট ঘোষণার পরেই বড় প্রশাসনিক রদবদল কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সুপ্রতিম সরকার-কে, তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় অজয় নন্দা-কে। এই নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, অজয় নন্দা নাকি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছেন না, বরং অন্য এক অফিসারের নির্দেশেই চলছেন।এদিকে, বিজেপি প্রার্থীর এই ধারাবাহিক মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল। শাসক দলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তাদের আশঙ্কা, এতে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে।

তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে শুভেন্দুকে শোকজ করা, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া, এমনকি প্রার্থী হিসেবেও তাঁর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারই ভবানীপুর কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Saha)যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভবানীপুর এখন শুধু একটি কেন্দ্র নয় রাজ্যের রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত মঞ্চ। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর শক্তির প্রদর্শনের মাঝে প্রশ্ন একটাই শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কি গণতন্ত্রের পথেই থাকবে, নাকি আরও উত্তাপ বাড়াবে ভোটের আবহ?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন