Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি :পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে ফের পুরনো অস্ত্র ঝালিয়ে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) “অনুপ্রবেশ” ইস্যু। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’পেশ করতে গিয়ে তিনি এমন এক চিত্র তুলে ধরলেন,যেন রাজ্যের সমস্ত সমস্যার মূলে একমাত্র এই বিষয়টিই।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR)নিয়ে যখন ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ইস্যুকে সামনে এনে শাহের দাবি করেন ,আসাম (Assam)-এ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আর পশ্চিমবঙ্গ নাকি এখন সেই”খোলা দরজা”।তবে প্রশ্ন উঠছে এত বড় অভিযোগের পক্ষে কতটা নির্দিষ্ট তথ্য বা পরিসংখ্যান সামনে আনা হয়েছে?আরও একধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)-র সরকারকে সরাসরি দায়ী করে তিনি বলেন, তৃণমূল নাকি অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করছে। কিন্তু বিরোধীদের একাংশের কটাক্ষ নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়, বরং বহুদিনের পরীক্ষিত ভোট-রাজনীতির অংশ।
সব মিলিয়ে, প্রশ্নটা ঘুরেফিরে এক জায়গাতেই এটা কি বাস্তব সমস্যা নিয়ে গুরুতর আলোচনা, নাকি ভোটের আগে আবেগে আগুন ধরানোর চেষ্টা? কারণ,যখন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বা পরিকাঠামোর মতো ইস্যুগুলি পিছনে পড়ে যায়, তখনই কি “অনুপ্রবেশ” সামনে চলে আসে?
শনিবার অমিত শাহ (Amit Shah) সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে পাশে নিয়ে যে বার্তা দিলেন,তা নিছক নির্বাচনী ভাষণ নয় বরং ভয় ও নিরাপত্তার আবেগকে সামনে এনে ভোটের মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন সমালোচকরা।
শাহ দাবি করেন,শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) গোটা রাজ্য ঘুরে “অব্যবস্থা, অরাজকতা ও অনুপ্রবেশ”-এর ছবি তুলে ধরেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এই চিত্রটা কি বাস্তবের পূর্ণ প্রতিফলন, নাকি নির্বাচনের আগে একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা?
তিনি আরও বলেন, বাংলার নির্বাচন নাকি শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।এখানেই আপত্তি তুলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ একটি রাজ্যের ভোটকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা কি অতিরঞ্জন নয়? নাকি এর মাধ্যমে ভোটারদের মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করাই লক্ষ্য?
আসামের(Assam)-এর উদাহরণ টেনে শাহ দাবি করেন, সেখানে অনুপ্রবেশ সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন এই সমাধান-এর নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন কোথায়?
সব মিলিয়ে,বিরোধীদের কটাক্ষ উন্নয়ন,কর্মসংস্থান বা অর্থনীতি নয়, বরং”অনুপ্রবেশ”ও “নিরাপত্তা”-র মতো আবেগঘন ইস্যুকেই সামনে রেখে ভোটের লড়াইকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি।আর সেই কারণেই, এই বক্তব্যকে অনেকে দেখছেন বাস্তব সমস্যার সমাধানের চেয়ে বেশি,একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই।


