Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলায় আজ সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court ) এর দিকে তাকিয়ে ছিল অনেক চোখ। বৈধ পাসপোর্টধারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে উঠেছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু সেই প্রত্যাশার জায়গাতেই যেন থামল পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল, এই মুহূর্তে তারা হস্তক্ষেপ করছে না।ফলে প্রশ্ন রয়ে গেল আগের জায়গাতেই নাগরিকত্বের প্রমাণ কি যথেষ্ট? নাকি ভোটার তালিকার নিয়ম আরও কঠোর? আদালতের এই অবস্থান নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল রাজনৈতিক মহলে, আর সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি করল কৌতূহল ও সংশয়।
আইনের দরজায় কড়া নাড়লেও, শেষমেশ পথ দেখাল অন্য দিকেই।পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আর তার সঙ্গে মিলল কিছু স্পষ্ট বার্তাও। আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, কোনও কারণ না দেখিয়েই জুডিশিয়াল অফিসার তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের আশায় তারা পৌঁছেছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে জানিয়ে দিল এই লড়াইয়ের প্রথম মঞ্চ ট্রাইব্যুনালই। আবেদনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হল, সেখানে গিয়েই নিজেদের দাবি তুলে ধরতে হবে। কেন নাম বাদ পড়ল, তার জবাবও সেখানেই খুঁজতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও আসবে সেই ট্রাইব্যুনাল থেকেই।
শুনানির মাঝে আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থার মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটাররা যেন চাপে পড়ছেন। এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি শুধু আইনি নয়, প্রশাসনিক জটিলতাও জড়িয়ে রয়েছে।এদিকে প্রধান বিচারপতি একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তাও দেন “জুডিশিয়াল অফিসারদের ভুল হতেই পারে, কিন্তু তাঁদের টার্গেট করা উচিত নয়।” অর্থাৎ, ব্যবস্থার সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিকে দায়ী করার প্রবণতা থেকে সতর্ক থাকতে বলল আদালত।এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল যেখানে অন্য রাজ্যেও একই প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই কেন তাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে? সেই প্রশ্ন আজকের সিদ্ধান্তেও যেন প্রতিফলিত হল।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এর অবস্থান স্পষ্ট আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা রয়েছে, কিন্তু সেই পথ শুরু হবে ট্রাইব্যুনালের দোরগোড়া থেকেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট একদিকে রাজ্য সরকার, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এই দুই সাংবিধানিক শক্তির টানাপোড়েনে যেন মাঝখানে আটকে পড়েছেন সাধারণ ভোটাররা। যেন এক অদৃশ্য স্যান্ডউইচ চাপে হয়ে যাচ্ছে তাঁদের মৌলিক অধিকার ভোটাধিকারই।এই মন্তব্যে শুধু আইনি দৃষ্টিভঙ্গি নয়, উঠে এল সাধারণ মানুষের বাস্তব সংকটের কথাও যেখানে প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের মাঝে ব্যক্তির অধিকারই হয়ে উঠছে সবচেয়ে অনিশ্চিত।


