Aaj India Desk,বাঁকুড়া: মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে প্রচারসভা থেকে শনিবার প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, আসন্ন ২০২৬ নির্বাচনে হার বুঝেই শাসকদল নাকি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(AI) ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও ছড়াচ্ছে। যদিও তিনি কারও নাম স্পষ্ট করে বলেননি, ইঙ্গিত ছিল তৃণমূলের দিকেই।এর পাল্টা জবাব আসে রবিবার বাঁকুড়ার ওন্দার সভা থেকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”যাঁর ভিডিও, তিনি নিজেই তার সত্যতা মেনে নিচ্ছেন। অথচ অন্যরা সেটাকে AI বলে চালানোর চেষ্টা করছেন।” নাম না করেই পাল্টা আক্রমণে শান দিয়ে তিনি বোঝাতে চান, প্রযুক্তিকে ঢাল করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এই মন্তব্য ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের ভোটের মঞ্চ, যেখানে AI এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র আক্রমণের সুর আরও স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাব ফেলতে নাকি বিশাল অঙ্কের ‘ডিল’ চলছে। একইসঙ্গে কটাক্ষ ছুঁড়ে বলেন, যাঁরা বিষয়টিকে AI এর ঘাড়ে চাপাচ্ছেন, তাঁদের অবস্থান প্রশ্নের মুখে।তার কথায়, “যদি সত্যিই AI দিয়ে বানানো হয়, তাহলে যিনি তৈরি করেছেন, তিনি তো নিজেই স্বীকার করছেন। তাহলে হঠাৎ করে তাঁর পক্ষ নেওয়ার কারণ কী?”তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে একদিকে হিন্দু ও অন্যদিকে মুসলমান ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। শেষে তীব্র ভাষায় বলেন, এই ধরনের রাজনীতির চরিত্র “গিরগিটির মতো পরিস্থিতি অনুযায়ী রং বদলায়।”
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। তৃণমূল কংগ্রেস একটি প্রায় ১৯ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের কথিত গোপন সমঝোতার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, সেই ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে হুমায়ুন নাকি বিজেপির কাছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দাবি করেছেন, যার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা দ্রুত দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
ভিডিওতে নাকি রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নামও উঠে এসেছে এমনটাই অভিযোগ শাসকদলের। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, যদিও ভিডিওর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক এখনও তুঙ্গে।এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও এ নিয়ে সরব হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রায় সকলেই এক সুরে এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়ো ভিডিও, যার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।এই পাল্টা দাবির জেরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে, ফলে AI প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক প্রচারের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে জনমনে।
ভিডিয়ো ঘিরে জটিলতা আরও বেড়ে যায় শুক্রবারের পর। সেদিন হুমায়ুন কবীর নিজেই দাবি করেছিলেন, পুরো বিষয়টাই নাকি AI এর কারসাজি। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাঁর সুর বদলাতে শোনা যায়। শনিবার তিনি বলেন, আসল ভিডিয়োটি ৫১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের, অথচ প্রকাশ্যে আনা হয়েছে মাত্র ১৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড। পূর্ণাঙ্গ ভিডিয়ো সামনে আনবেন বলেও জানান তিনি।এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ঘিরে ধন্দে পড়ে যায় অনেকেই। তৃণমূল প্রশ্ন তোলে হুমায়ুনের কোন বক্তব্যকে সত্যি ধরা হবে? এই বিভ্রান্তির আবহেই বাঁকুড়ার ওন্দার সভা থেকে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশনের অজুহাতে বাংলাকে তিন ভাগে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এরপরই NRC প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, অসমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা সামনে রয়েছে বাংলাতেও সেই একই চিত্র দেখা যেতে পারে।
সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি জানান, নাগরিকদের নিজেদের অধিকার রক্ষায় সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও নিয়ে কড়া অবস্থান নেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, মহিলাদের প্রতি কোনওরকম অসম্মান বা দুর্ব্যবহার হলে সঙ্গে সঙ্গে FIR দায়ের করতে হবে।সব মিলিয়ে, ভিডিও বিতর্ক থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব ইস্যু একাধিক বিষয়কে সামনে এনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল এই সভা।


