31 C
Kolkata
Sunday, April 12, 2026
spot_img

“করিডর কাটার চক্রান্তে মদত” -কাদের দিকে আঙুল তুললেন নরেন্দ্র মোদী?

Aaj India Desk, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত! উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে তৃণমূল (TMC)-এর মদতের অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি এই ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ শানান রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দেশে এমন এক ‘টুকরে টুকরে’ মানসিকতার গোষ্ঠী সক্রিয়, যারা একসময় শিলিগুড়ি করিডর কেটে দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের মূল অংশ থেকে আলাদা করার হুমকি দিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সেই ধরনের শক্তিগুলিকে শুধু জনসমক্ষে নয়, সংসদীয় ক্ষেত্রেও সমর্থন জুগিয়েছে। মোদী বলেন, এই করিডর দেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি (BJP) এই করিডরকে দেশের সুরক্ষা ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সংযোগপথ হিসেবে দেখে এবং ভবিষ্যতেও এর নিরাপত্তা জোরদার করতে বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার (Jayprakash Majumdar) পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, যাঁকে বিজেপি রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে, সেই অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj) নিজেই তো উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার দাবি তুলেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি ‘টুকরে টুকরে’ রাজনীতির কথা বলা হয়, তাহলে সেই বক্তব্য দেওয়া নেতার বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?

তৃণমূলের দাবি, বিজেপি আসলে বিভাজনের রাজনীতি উসকে দিতে শিলিগুড়ি করিডরের প্রসঙ্গ সামনে আনছে। তাদের মতে, সীমান্ত ও কৌশলগত এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর, তাই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অমূলক।উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবি তুলেছিলেন অনন্ত মহারাজ। তার আগে ‘পৃথক কামতাপুর’ বা ‘গ্রেটার কোচবিহার’ রাজ্যের দাবিও ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান। তাঁর সংগঠন ‘দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’ কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে যথেষ্ট প্রভাবশালী বলেই রাজনৈতিক মহলে মনে করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে, উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে, যা ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন