Aaj India Desk, কলকাতা : একদিকে জনসংযোগ, অন্যদিকে জনসভা ,বাংলার ভোটের ময়দান এখন তুঙ্গে। এই আবহেই পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।সেখান থেকেই তিনি যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বড় বার্তা দেন। যাদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা পৌঁছয়নি, তারা কবে সেই অর্থ পাবেন, তা স্পষ্ট করে জানান তিনি। ভোটের আগে এই ঘোষণা যুব সমাজের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি জানান, নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী সকলকেই যুবসাথীর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এখনও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাদের টাকা এখনও পৌঁছায়নি, তাদের জন্য প্রসেস চলছে, সবাই টাকা পেয়ে যাবেন।” ফলে যেসব উপভোক্তা এখনও টাকা না পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁদের জন্য সভা থেকেই স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সময়মতো সকলের অ্যাকাউন্টেই অর্থ পৌঁছে যাবে।
এর আগেও ইস্তাহার প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee) যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, কেন এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে এবং কতদিন পর্যন্ত এর সুবিধা মিলবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী প্রায় এক কোটি যুবক-যুবতীকে মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে তিনি পরিষ্কার করেন, এটি বেকার ভাতা নয়, বরং হাতখরচ হিসেবে দেওয়া আর্থিক সহায়তা, যাতে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত যুব সমাজ কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পায়। তিনি আরও জানান, এই সহায়তা চাকরি পাওয়া পর্যন্তই চালু থাকবে, এবং এর মধ্যেই অধিকাংশ উপভোক্তা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে যাবেন বলেই আশাবাদী সরকার।
পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষীরভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই প্রকল্পের টাকা কোনওভাবেই বন্ধ হবে না এবং আজীবন এই সুবিধা দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়স থেকে মহিলারা আজীবন এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। তৃণমূল সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এখন সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং এসসি এসটি মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটের সমীকরণে ? রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের প্রকল্প একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়ায়, তেমনই অন্যদিকে ভোটব্যাঙ্কে তার প্রতিফলন কতটা পড়ে, সেটাই হবে দেখার বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ভাতা ও নির্বাচনী ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক কতটা গভীর, তা বোঝা যাবে আসন্ন ভোটের ফলেই।


