Aaj India Desk, কলকাতা: সুদীপ্ত সেনের জামিন -এখন কি শুধু সময়ের অপেক্ষা? সারদা কাণ্ডে (Saradha Scam) এদিন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta HighCourt)। রাজ্য সরকার থেকে শুরু করে সিবিআই(CBI) -কেউই রেহাই পেল না বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের কড়া মন্তব্য থেকে। মঙ্গলবার জামিন মামলার শুনানি শেষ হলেও, রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ, আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে সারদা ও তালুকদার কমিটিকে বিস্তারিত হিসেব জমা দিতে হবে। বাজার থেকে তোলা টাকার পরিমাণ, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির হিসেব এবং আমানতকারীদের কাছে এখনও কত বকেয়া রয়েছে -সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছে বেঞ্চ।
মামলাকারীর আইনজীবী জানান, সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল বিধাননগর থানার মামলায় গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন। পরে সিবিআই ৭৬টি মামলা হাতে নেয় এবং সেখান থেকে চারটি মামলা দায়ের করে। বাকি মামলাগুলিতে চার্জশিট দেয় রাজ্য পুলিশ। সিবিআইয়ের দায়ের করা চারটি মামলাতেই ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন সুদীপ্ত সেন এবং বেল বন্ডও জমা দিয়েছেন। তবে এখনও রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার মধ্যে বারাসত থানার দুটি মামলায় জামিন মেলেনি। সেই কারণেই কারাবন্দি থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির মন্তব্য, “২০১৪ সালে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, অথচ এতদিনেও ট্রায়াল শুরু হয়নি! এভাবে কি কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যায়? জামিন পেলে আদালতকে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করা সম্ভব।” শুনানিতে আরও জানা যায়, বারাসত থানার একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি দীর্ঘদিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, যা অবশেষে ২০২৪ সালে উদ্ধার হয়। এই নিয়ে সিবিআইকেও তীব্র ভর্ৎসনা করে আদালত। বেঞ্চের প্রশ্ন, “ট্রায়াল শেষ করার কোনও দায় কি সিবিআইয়ের নেই? শুধুমাত্র জামিন আটকে রাখাই কি উদ্দেশ্য?”
এদিন সম্পত্তি বিক্রি নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতির বিস্ময়, সারদার ৯টি বাংলো এবং একটি ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে কীভাবে? আরও অভিযোগ, প্রায় ২০টি বাংলো ও ১০টি ফ্ল্যাট মাত্র ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এত কম দামে এই সম্পত্তি বিক্রির পিছনে কার ভূমিকা? তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।
এছাড়াও তালুকদার কমিটির কাজ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চ। প্রায় ২০ হাজার আবেদন জমা পড়লেও, এখনও পর্যন্ত মাত্র ৫০০টি আবেদন খতিয়ে দেখা হয়েছে -এই ধীরগতির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। এখন নজর, সেই দিন আদালত কী অবস্থান নেয় -আর সুদীপ্ত সেনের জামিনের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী লেখা থাকে।


