Aaj India Desk ,কলকাতা : বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা(Dushyant Naryala) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত জেলার ডিএম, এসপি ও সিপিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।কিন্তু সভার ভিতরটা মোটেই শান্তিপূর্ণ ছিল না, ডিএমরা একে অন্যের দিকে চুপচাপ তাকাচ্ছিলেন, এসপিরা মৃদু হেসে হেসে টনকা ভাব দেখাচ্ছিলেন। মুখ্যসচিবের প্রশ্নে যেন রুমে বাতাস থেমে গিয়েছিল ‘ সব জেলা কি প্রস্তুত?’ কিছু কর্মকর্তার চোখে চিন্তা, কিছুটা অনিশ্চয়তা। এক দিকে উচ্চপদস্থরা নোট নিচ্ছিলেন, অন্য দিকে অফিসাররা মনে মনে ভাবছিলেন ‘আজ কি নতুন নির্দেশনা আসছে, না কি আগের ভুলের জন্য কেউ টালমাটাল হবে?’মোটকথা, নবান্নের এই ভিডিও কনফারেন্স যেন এক ধরণের ‘চুপচাপ যুদ্ধক্ষেত্র’ যেখানে কথা কম, কিন্তু চোখ এবং ভাবনায় যুদ্ধ চলছে।
রামনবমীর শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার জন্য রাজ্যজুড়ে মোতায়েন রাখা হচ্ছে বিশাল পুলিশবাহিনী। বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বের হবে মিছিল, কিন্তু তার আগেই নবান্নে বসে প্রস্তুতি পরীক্ষা করলেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা (Dushyant Naryala)।
বুধবারের ভিডিও কনফারেন্সে সমস্ত জেলার ডিএম, এসপি, সিপি-দের সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সভার পরিবেশ ছিল এক ধরনের ‘শান্তির প্রস্তুতিমঞ্চ’ একদিকে সিরিয়াস মুখ, অন্যদিকে চোখে চোখ রাখার ছোট চ্যালেঞ্জ। মুখ্যসচিব বারবার জোর দিয়েছেন, “সব জেলা প্রস্তুত থাকুক, যাতে মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।” অফিসাররা নোট নিচ্ছেন, কিছুটা চিন্তিত, কিছুটা সতর্ক যেমন কেউ বলছে, “আজ কোনও ছোট খুনোখুনির সুযোগও দেওয়া যাবে না।” নবান্নের এই বৈঠক যেন এক অভিনব ট্রেনিং সেশন যেখানে প্রস্তুতি, সতর্কতা আর শৃঙ্খলার মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে রামনবমীর মিছিলে কোনো অশান্তি না হওয়ার প্ল্যান।
নবান্ন সূত্রে খবর, রামনবমীর মিছিলে অশান্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাওড়া, চন্দননগর ও ইসলামপুরে রাখা হচ্ছে বাড়তি নজরদারি কারণ এই এলাকায় অতীতে মিছিলে উত্তেজনা দেখা গেছে। রাজ্যজুড়ে মোতায়েন থাকবে মোট ৩ হাজার পুলিশ, তার মধ্যে কলকাতার জন্য থাকবে প্রায় হাজারখানেক। প্রয়োজনে সিআরপিএফের সাহায্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social media ) উসকানিমূলক পোস্ট ছড়ানো রুখতে সাইবার টিমও সতর্ক অবস্থানে থাকবে। বৈঠক থেকে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি চালাতে। নবান্নের এই প্রস্তুতি যেন এক ধরণের ‘অশান্তি রুখা যুদ্ধপরিকল্পনা ‘ যেখানে পুলিশ, সাইবার টিম আর প্রশাসন একসঙ্গে নজর রাখবে, যাতে মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।


