Aaj India Desk, কলকাতা: অবশেষে প্রকাশ্যে এল স্যার (SIR)-এর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা তবে সময় নিয়ে উঠল একগুচ্ছ প্রশ্ন। দুপুর, বিকেল, সন্ধে পেরিয়ে রাত গভীর হতে না হতেই সামনে এল সেই তালিকা। আর এত দেরিতে, তাতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে।
নির্দিষ্ট সময় মেনে তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় কেউ বলছেন গাফিলতি, আবার কারও অভিযোগ আরও গুরুতর এটা নাকি পরিকল্পিত চাল। কমিশনকে ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে নতুন করে বিতর্কের আবহ। এই পরিস্থিতিতেই উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। স্যার (SIR)-এর তালিকা নিয়েই সরাসরি আক্রমণ শানালেন তিনি, তুললেন একাধিক প্রশ্ন। তালিকা প্রকাশ ঘিরে এই সময়জট স্রেফ কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও হিসাব? বিতর্ক কিন্তু ক্রমশই ঘনীভূত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -র কণ্ঠে এদিন স্পষ্ট ক্ষোভ আর তীব্র প্রশ্নের সুর। তাঁর বক্তব্য, “মধ্যরাতে SIR-এর তালিকা প্রকাশের প্রয়োজনই বা কী? এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষ জানতেই পারল না তালিকায় কী আছে বুথে নেই, ব্লকে নেই, জেলায় নেই। তাহলে এই গোপনীয়তা কেন?”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। একের পর এক ঘটনার উল্লেখ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও। তাঁর দাবি, “এত মানুষ মারা যাচ্ছে, তবু তালিকা নিয়ে এই লুকোচুরি ভয়টা কোথায়?” তাঁর কথায়, তালিকা প্রকাশে দেরি মানেই স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত। “যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে এত দেরি কেন? আর যেগুলো নাম উঠেছে, সেগুলোও আমরা আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করব” সরাসরি জানিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে আরও এক বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তালিকা কি একতরফাভাবে তৈরি? কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া হয়েছে কি? তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘পুরো তালিকা সামনে না এলে সত্যিটা জানা যাবে না।’ সব মিলিয়ে, SIR তালিকা ঘিরে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল এটা কি শুধুই প্রশাসনিক দেরি, নাকি এর আড়ালে আরও বড় কোনও সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে?
SIR ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্কের প্রসঙ্গ টেনে আরও তীব্র সুরে আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, “আর কত প্রাণ বলিদান হবে? মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। মনে রাখবেন, SIR-ই শেষ পর্যন্ত ওদের শেষ করবে।” শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ভাইরাল হওয়া নির্বাচন কমিশনের একটি নোটিশ দেখিয়ে সরাসরি বিজেপির দিকেও অভিযোগের তীর ছুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নোটিশে বিজেপির স্ট্যাম্প-যুক্ত কাগজ দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন “এটা কি শুধু কাকতালীয়? নাকি এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বড় কোনও ইঙ্গিত?” তাঁর দাবি, “BJP মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে এটাই তার প্রমাণ।” পাশাপাশি নোটিশে ‘ *all states and UTs* ‘ উল্লেখ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, ‘এটা কি সত্যিই শুধু ‘ক্লারিকাল মিস্টেক’? নাকি এর পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত কিছু?’ সব মিলিয়ে, SIR ইস্যুতে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াল এটা কি সত্যিই প্রশাসনিক ভুল, নাকি বৃহত্তর কোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য, “এই নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ নয়, তার প্রমাণই আপনাদের দেখাতে চাই কমিশনের নোটিফিকেশনেই কেন থাকবে বিজেপির ভোটচিহ্ন? তাহলে কমিশন আসলে কার ইশারায় চলছে?” এখানেই থামেননি তিনি। কটাক্ষের সুরে বলেন, “অনেক সময়ই বলা হয় ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি। কিন্তু এখন তো ‘cat is out of the bag’। সব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, যদি কোনও রাজনৈতিক পক্ষের প্রভাব না থাকে, তাহলে এভাবে নোটিফিকেশনে দলীয় চিহ্ন আসে কীভাবে? তাঁর সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “পেছনের দরজা দিয়ে খেলা কেন? সামনে এসে খেলুন সবাই তো বুঝতেই পারছে কী হচ্ছে।”
এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে এটা কি সত্যিই নিরপেক্ষতার প্রশ্ন, নাকি রাজনৈতিক চাপানউতোরেরই অংশ, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা।


