Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা : বিধানসভা ভোটের আগে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় (Bhatpara) ফের বিপুল অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। ঘটনায় উত্তপ্ত পুরো এলাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালেই ভাটপাড়া (Bhatpara) এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। জগদ্দল জিলিপি মাঠে হানা দিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকেই উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ।
গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির নাম অজয় বিশ্বকর্মা ও ফিরোজ আলম। তদন্তে উঠে এসেছে, জগদ্দল এলাকায় এক যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তারা। সেই মামলার সূত্র ধরেই তাদের খোঁজে ছিল পুলিশ।
নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারে উদ্বেগ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিল পর্যন্ত ভাটপাড়া থানার পুলিশ মোট ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে গ্রেফতার হয়েছে মোট ২৭ জন অপরাধী। নির্বাচনের আগে এই ধারাবাহিক অস্ত্র উদ্ধারে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চলবে কড়া নজরদারি
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে এলাকায় অস্ত্র মজুতের এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মত অনেকের। গণতন্ত্রের অন্যতম বড় শক্তি হল শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেন। কিন্তু ভোটের আগে বারবার অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের ঘটনা সেই প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। ভাটপাড়ার (Bhatpara) সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযানের মাধ্যমেই এই ধরনের অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে, যা নিরাপত্তা জোরদার করারই অংশ। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে তা নির্বাচনের আগে জমা হচ্ছে। ফলে গণতন্ত্রের উৎসব যাতে ‘ফায়ারিং ফেস্ট’-এ পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।


