Aaj India Desk, মালদহ : মালদার কালিয়াচক (Kaliachak) কাণ্ড নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এই মামলায় সামনে এলো নতুন তথ্য। ঘটনার সাত দিন আগেই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা জানিয়ে জেলা শাসককে চিঠি দিয়েছিলেন সাতজন বিচারক ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই এবার প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
বুধবারের ঘটনায় কালিয়াচকে (Kaliachak) সাতজন বিচারক ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিক প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা ধরে বিডিও অফিসে আটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA তদন্ত শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারকদের চিঠি ঘটনায় নতুন মোড় এনে দিয়েছে। চিঠির বিষয়বস্তু তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী লেখা চিঠিতে ?
২৩ মার্চ লেখা ওই চিঠিতে বিচারকরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কালিয়াচক (Kaliachak) ২ নম্বর ব্লক অফিসের পরিবেশ ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয় মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তা থেকে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল, তাঁদের প্রতিদিনের যাতায়াতেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রায় ৫৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অফিসে যেতে হয় বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি চিঠিতে বলা হয়েছিল, সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে মোথাবাড়ি এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বিচারকদের দাবি, এই আশঙ্কার কথা সরাসরি জেলা শাসককে জানানো হয়েছিল।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিচারকদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সাত দিন আগেই সম্ভাব্য অশান্তি ও হামলার আশঙ্কা স্পষ্টভাবে জেলা শাসককে জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতটা নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হল না? আরও বড় প্রশ্ন, জেলা শাসক কি বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন? যদি জানানো হয়ে থাকে, তবে কেন আগাম প্রস্তুতি বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়নি? আর যদি জানানো না হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনিক স্তরে কোথায় ঘাটতি রয়ে গেল?
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষার অভিযোগ সামনে আসছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলিও এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


